১৮ ঘন্টা পর আবু সিদ্দিক ওসমানীর অনশন ভাঙালেন ‘রিলিফ’ প্রধান প্রেট্রেশিয়া

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা পর রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল নামের আইএনজিও’র কক্সবাজার অফিস প্রধান মিস প্রেট্রেশিয়া উখিয়ার এসএআরআই আইসোলেশন ও ট্রিটমেন্ট সেন্টারের ডি-২ নম্বর বেডে গিয়ে পানি পান করিয়ে অনশনরত এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানীর অনশন ভঙ্গ করিয়েছেন।

সোমবার (৬ জুন) বেলা ১টার দিকে রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের চরম অব্যবস্থাপনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেয়া, ভুল ওষুধ দিয়ে ফাইল গায়েব করা ও রোগীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তবে রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের কক্সবাজার অফিস প্রধান মিস প্রেট্রেশিয়া আইসোলেশন সেন্টারের চরম অনিয়ম দেখে রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যান।

পরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাঃ শাজাহান আলি, উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আ জ ম মঈন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদসহ বিভিন্নজনের অনুরোধে এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী অনশন ভাঙ্গেন।

রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল নামের আইএনজিও’র একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসময় রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের সমন্বয়কারী মাসুদসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিজ বেডে অনশনরত অবস্থায় মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা না খেয়ে, ওষুধ সেবন করেননি। তিনি একজন কোভিড-১৯ রোগী হয়েও সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে যান।

সিনিয়র আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ হয়ে গত ২৮ জুন থেকে সেখানে ভর্তি হন। রোগীদের সাথে ঔদ্ধত্য দেখানো ‘মাস্তান’ সাজুকে অপসারণ, ভুল চিকিৎসা দিয়ে ফাইল গায়েব করাসহ গুরুতর অভিযোগ গুলোর বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কোটি টাকা ব্যয় করে উখিয়া উপজেলার টিএন্ডটি মাঠের দক্ষিণপ্রান্তে জাতিসংঘের অংগ প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআর উখিয়া এসএআরআই আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অনুরোধে দ্রুততম সময়ে নির্মাণ করে।

গত ২১ মে হাসপাতালটি জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন উদ্বোধন করেন। ২৭ মে থেকে সেখানে কোভিড-১৯ রোগীদের ভর্তি দেয়া শুরু হয়। রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি আইএনজিও উখিয়ার আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি পরিচালনা করার দায়িত্ব দায়িত্ব নেয়।

এই এনজিওটি চীনের তৈরি মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধের নাম, কোম্পানি, তারিখ, মেয়াদ কেটে ফেলে জোর করে রোগীদের অন্ধকারে রেখে ওষুধ গুলো খাওয়াচ্ছে। চীনে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি ওআরএস (খাওয়ার স্যালাইন) কৌশলে রোগীদের খাওয়াচ্ছে।

কোন রোগী ওষুধের নাম, কোম্পানির নাম, ওষুধের মেয়াদের বিষয় জানতে চাইলে সে সকল রোগীদের উপর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলে অভিযোগ উঠে রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল নামের এনজিওটির লোকজনের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গণমাধ্যমকর্মী মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানীকে নিয়মিত দেয়া সেফিরক্সিম ১ গ্রাম নামের ইনজেকশনটি ৪ জুন সকালের ডোজটি চিকিৎসক, নার্সরা অবহেলা করে তাঁকে দেননি। ফলে তাঁর রোগ বেড়ে যেতে থাকে। কিন্ত শনিবার সকালের ইনজেকশনটি দিতে কেন বিকেল পর্যন্ত এড. মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানীকে পুশ করা হয়নি। তা জানতে চাইলে এনজিওটির মাস্তান প্রকৃতির ‘সাজু’ নামক মেডিকেল সহকারীর নেতৃত্বে ৫/৬ মাস্তান রোববার ৫ জুন তাঁর উপর মারমুখী হয়ে উঠে। তার প্রতিবাদে গণমাধ্যমকর্মী এড. মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী তাৎক্ষণিকভাবে নিজ বেডে অবস্থান ধর্মঘট শুর করেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!