করোনাবিধি মেনেই আবু ছিদ্দিক ওসমানির মায়ের জানাযা ও দাফন

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঝিলংজা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মাহমুদুল হক ওসমানী ওরফে মোহাম্মদ চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী, জেলার বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনীতিক ও সাংবাদিক আবু সিদ্দিক ওসমানীর মা উম্মে হাবিবার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চেয়ারম্যান ঘাটা মসজিদের পাশের মাঠে স্বল্প পরিসরে জানাযায় ইমামতি করেন কক্সবাজার জামে মসজিদের খতিব ও বরেন্য আলেম মাওলানা মাহমুদুল হক। মহিয়াসী এই নারী করোনায় আক্রান্ত থাকলেও তাঁর জানাযায় এলাকার মানুষ এবং আত্মীয় স্বজনদের বাঁধায় রাখা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বেশি মানুষ যাতে অংশ না নেয়। তবুও অনেকেই জানাযায় অংশ গ্রহণ করলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মরহুমার বড় ছেলে আবু ছিদ্দিক ওসমানি জানাযায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে উখিয়ার আইসোলেশন হাসপাতালে ভর্তি থাকা এবং অবস্থা ভালো না থাকায় তাঁকে আনা যায়নি।
জানাযা শেষে ওম্মে হাবিবার মৃতদেহ চেয়ারম্যানঘাটাস্থ পারিবারিক কবরস্থান মরহুমার স্বামী সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মাহমুদুল হক ওসমানী ওরফে মোহাম্মদ চেয়ারম্যানের কবরের পাশেই চিরসমাহিত করা হয়।

এর আগে আবু ছিদ্দিক ওসমানির মা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় সকাল পৌনে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি গত ২৬ জুন মাইল্ড ষ্ট্রোক করলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুইদিন পর তাঁর করোনাভাইরাস পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট আসে। ওইদিন থেকেই সদর হাসপাতালের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটি (আইসিইউ)তে ভর্তি দেয়া হয়। সেখানে অবস্থা অবনতি হলে ৬৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধাকে কৃত্তিম শ্বাস প্রশাসের যন্ত্র ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর অক্সিজেন সিস্যুরেশন কমতে থাকে। এক পর্যায়ে আইসিইউর সকল সাপোর্ট দেয়ার পর শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইসিইউ ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তালহা আহমেদ।

তিনি জানান, জাতীয় গাইড অনুযায়ী বিটিএল প্রটোকশন দেয়া হয়েছিল এই বৃদ্ধাকে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হবার পর তাঁর ইনফেকশন কোনমতে কন্ট্রোল করা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত সদর হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা সমস্ত সাপোর্ট দেয়ার পরও তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রসঙ্গত: আবু ছিদ্দিক ওসমানরি মা মাইল্ড স্ট্রোক করলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের চতুর্থতলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ২০ নাম্বার বেডে ভর্তি রাখা হয়েছিল।

সুত্র মতে, উম্মে হাবিবা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে আবু সিদ্দিক ওসমানীর সাথে কক্সবাজার শহরের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের এবিসি ঘোনা (আবু বকর সিদ্দিক ঘোনা) এলাকার ‘চেয়ারম্যান বাড়ি’তেই বসবাস করে আসছিলেন।

সম্প্রতি আবু সিদ্দিক ওসমানীসহ তার স্ত্রী তসলিমা আক্তার, তাদের দুই মেয়ে ও এক গৃহকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত দুই মেয়ে হলো বড় মেয়ে তানজিম ওসমানী, মেজো মেয়ে নাদিয়া ওসমানী জাইমা। তাদের সাথে গৃহকর্মী রিনা আক্তারও আক্রান্ত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, আবু সিদ্দিক ওসমানীর ভগ্নিপতি, কক্সবাজার জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক আবদুল মান্নান, তার একমাত্র বোন ও আবদুল মান্নানের স্ত্রী দিলরুবা ওসমানী এবং তার স্ত্রী তসলিমা আক্তারের বড় ভাই, কক্সবাজার জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারি মোহাম্মদ আমান উল্লাহও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে আবদুল মান্নানের শারিরিক অবস্থা উন্নতি হলে তাকে বাড়িতে আনা হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!