চকরিয়ায় মাতামুহুরীর তীরসংরক্ষণে ৫ কোটি টাকায় বসছে ৭১৩৬৬ সিসি ব্লক

চকরিয়ায় মাতামুহুরীর তীরসংরক্ষণে ৫ কোটি টাকায় বসছে ৭১৩৬৬ সিসি ব্লক

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

অবশেষে মাতামুহুরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবল থেকে মুক্ত হতে চলেছে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া অংশের ৩০০ মিটার এবং লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ২০০ মিটার এলাকা। নদীতীরের এই দুই অংশে বসানো হচ্ছে তিন সাইজের সর্বমোট ৭১ হাজার ৩৬৬টি সিসি ব্লক। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেয়া এই প্রকল্পের কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হলে নদীর ভাঙন এবং পৌরসভা এবং লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বিশাল এলাকা বন্যামুক্ত থাকবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ইতোমধ্যে কোচপাড়া অংশে সিসি ব্লক বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখানে এখন চলছে উপরিঅংশের বেড়িবাঁধে মাটি কাটার কাজ। পৌরসভার বিশাল অংশ রক্ষায় মেয়র আলমগীর চৌধুরীর বিশেষ তদবিরে এই প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিরিঙ্গা শাখা কর্মকর্তা (এসও) মো. শাহ আরমান সালমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, মাতামুহুরী নদীর ভাঙনরোধে ৫০০ মিটারে সিসি ব্লক বসানোর জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্টার লাইট এন্ড অর্ণা কর্পোরেশন (জেভি) এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

তিনি জানান, কাজের অগ্রগতির মুহূর্তে গতবছর ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৫০০ মিটার পয়েন্টে নদীর তীর সংরক্ষণের এই কাজটি ভালভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তৈরিকৃত সিসি ব্লকের গুণগত মান ঠিক রয়েছে কি-না তা পরীক্ষা করতে ল্যাবে পাঠানো হয়। নির্মিত ব্লকের মান ঠিক থাকায় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম সরজমিন পরিদর্শন শেষে নদীর তীরে ব্লক বসানোর কাজও শুরু হয়েছে।

কাজটি সম্পন্ন হওয়ায় শুকরিয়া জ্ঞাপন করে চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীতীরের কোচপাড়া অংশের বিশাল এলাকা প্রতিবছর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে অনেকেই হারিয়েছেন বসতভিটা। তাই আমার বিশেষ তদবির ছিল এই প্রকল্পটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে। কাজটি কয়েকদিনের মধ্যে শেষ
হলে চলতি বর্ষা মওসুমে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!