জটিল রোগে মৃত্যুযন্ত্রণায় আ.লীগ নেতা মকছুদ, অর্থ সংকটে নেই চিকিৎসা

জটিল রোগে মৃত্যুযন্ত্রণায় আ.লীগ নেতা মকছুদ, অর্থ সংকটে নেই চিকিৎসা

রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

পেকুয়ায় জটিল রোগে ভোগছেন আওয়ামী লীগ মগনামা ইউনিয়ন শাখার ৫নং ওয়ার্ড কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু মকছুদ ওরফে মকছুদ মিস্ত্রী (৫২)। দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের ‘প্রাণভ্রমরা’ এ নেতা মৃত্যু যন্ত্রণায় লড়ছেন। দীর্ঘ সময় জটিল রোগে আক্রান্ত থাকায় মকছুদ মিস্ত্রী এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

তিনি বর্তমানে অসুস্থ শরীর নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। অনেকটা কঠিন মানবেতর জীবন অতিবাহিত হতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির ওই সাধারন সম্পাদককে।

গত ৩ মাস ধরে মকছুদ মিস্ত্রী শয্যাশায়ী। হাঁটাচলা থেমে গেছে। বিছানার মধ্যে শুয়ে থাকতে হচ্ছে সার্বক্ষণিক। তবে অর্থ সংকট ঘনীভূত হওয়ায় বর্তমানে নেই কোন তার চিকিৎসা। গত ৫ মাস আগে থেকে মকছুদ মিস্ত্রী রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাকস্থলীতে তার মারাত্মক রোগ নির্ণয় করা হয়েছে। সে সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়েছেন। সেই মতে নিয়মিত মেডিসিন সেবন করা অব্যাহত রাখেন।

তবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন তাকে এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। ওই চিকিৎসা ব্যয়বহুল হবে। মকছুদ মিস্ত্রী নিজের অর্থায়ন থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা করেছেন।

তিনি একজন নি¤œবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। আওয়ামী লীগ ওয়ার্ড কমিটির সাধারন সম্পাদক হলেও তিনি ছিলেন মূলতঃ একজন পরিশ্রমী ব্যক্তি। কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। তবে সময়ে রাজনীতিক ডাক পেলে ছুটতেন যে কোন মিছিল মিটিংয়ে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির অসাধারণ নিবেদিত কর্মী।

তার বাড়ি উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়া গ্রামে। আবু মকছুদ ওই গ্রামের মৃত ওলামিয়া সওদাগরের ছেলে। তার বাবা ওলা মিয়াও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ছিলেন। ষাট ও সত্তর দশকে ওলা মিয়া মুহুরীপাড়া গ্রামে চায়ের দোকান করতেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় আবু মকছুদের বাবা ওলা মিয়া ছিলেন একজন দেশদরদী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব। ৭৪’র দিকে বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্টা করেন। সে সময় এ অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এড. জহিরুল ইসলাম ও তার বড় ভাই অবিভক্ত মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। ওলা মিয়া দু’ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ছিলেন।

আবু মকছুদ ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রত্যক্ষ ভোটে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করেন।

মগনামা ইউনিয়নে মুহুরীপাড়া গ্রামটি আওয়ামী লীগের দুর্গ। ওই গ্রামে শতকরা ৯৮ মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তবে কালের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও নেত্রী শেখ হাসিনার আস্থার বিশ্বস্ত মানুষগুলো অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলেও মগনামায় দলটির নেতা-কর্মীরা সবক্ষেত্রে বঞ্চিত ও নিস্পেষিত। সরকারের সব সুযোগ সুবিধা লুটে নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।

মকছুদ আহমদ দীর্ঘদিন অসুস্থ রয়েছেন। অথচ নেয়া হয়নি তার কোন খোঁজখবর। চিকিৎসা সংকটে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। নেত্রী শেখ হাসিনা মানবতার কল্যাণের জন্য সাহায্যও পৌছাচ্ছেন। তবে নেত্রীর আদর্শের মানুষগুলো এ সব সহযোগিতা থেকে রয়েছেন অনেক দূরে।

আবু মকছুদের ছেলে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমাদের বাবার জন্য আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করেছি। আমরা তো গরীব মানুষ। যা সঞ্চিত ছিল তা দিয়ে করেছি। এখন আর টাকা নেই। চিকিৎসাও ব্যয়বহুল হওয়ায় থেমে গেছে।

অপর ছেলে আমজাদ হোসেন বলেন, সারাজীবন বাবা রাজনীতির জন্য উদার ছিলেন। এখন খোঁজখবর নেয়ার মানুষ নেই। আমরা আওয়ামী লীগ করি বলে সরকারী ত্রাণ পর্যন্ত পাই না।

মকছুদ মিস্ত্রীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, সবকিছুর উর্ধে থাকত দল। আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচী থাকলে আয় রোজগার ফেলে ছুটে যেতেন। অথচ মানুষটি বাড়িতে পড়ে আছেন। কেউতো খোঁজখবর নিচ্ছেন না।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ হাসেম জানান, আওয়ামী লীগের নিঃস্বার্থ কর্মী হচ্ছেন মকছুদ মিস্ত্রী। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে মকছুদ আহমদকে দেখেছি দলের জন্য অনন্য ভূমিকায়। তিনি নিপুণ ডিজাইনে কারুকাজ শৈলীতে নৌকা তৈরি করে সড়কের বিভিন্নপ্রান্তে টাঙ্গিয়ে দিতেন। পোষ্টার, ব্যানার ও প্রচার প্রচরণায় তার পরিশ্রম দলের জন্য ছিল প্রাণশক্তি। মানুষটি অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ খাইরুল এনাম জানান, মকছুদ মিস্ত্রী রাজনীতির প্রাণশক্তি। আজকে এ রকম নিঃস্বার্থ মানুষগুলোর বেলায় কেউ ছুটে আসছেন না। তিন চার মাস ধরে কষ্ট পাচ্ছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!