‘রেড জোন’ চকরিয়ায় লকডাউন জনসচেতনতায় মাইক হাতে এমপি জাফর

‘রেড জোন’ চকরিয়ায় লকডাউন জনসচেতনতায় মাইক হাতে এমপি জাফর

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

দিন দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ মারা যাওয়া এবং আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এর সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের প্রথম জেলা কক্সবাজারকে ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে বিভিন্নস্থানে চলমান রয়েছে ১৪ দিনের লকডাউন কর্মসূচী।

জেলাশহর, উখিয়া ও টেকনাফে লকডাউন যথাযথভাবে কার্যকর হলেও চকরিয়া পৌরসভার বেলায় ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এখানে অসচেতন মানুষ এবং বহিরাগত ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের ঘোষিত এই লকডাউন অমান্য করার প্রবণতা এবং প্রশাসনের সঙ্গে লুকোচুরি খেলায় ব্যস্ত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জনগণকে আরো বেশি সচেতন করতে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম।

দলীয় সূত্র জানায়, রাজনীতির পোড় খাওয়া এমপি জাফর আলমের বয়স এখন ৬৩ বছর এবং উচ্চতায় পাঁচ ফুট। এরপরও তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঠেই আছেন। সরকার কর্তৃক প্রথমদফায় ঘোষিত একটানা লকডাউনের সময় জনগণকে নিরাপদ রাখতে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণের মাঝে ত্রাণ তৎপরতা, দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেয়া এবং তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছেন। যা এখনো অব্যাহত রেখেছেন।

দ্বিতীয়দফায় গত সোমবার থেকে মাইক হাতে মাঠে নামেন এমপি জাফর আলম। রেড জোনের আওতাভুক্ত পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালান তিনি। এ সময় জনগণকে অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার আহবান জানান।

এমপি জাফর আলম প্রচারণার সময় বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ থেকে সবাইকে বাঁচতে হবে। নিজে বাঁচুন, পরিবারের সবাইকে বাঁচান, প্রতিবেশিকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করুন। আপনারা সচেতন হোন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, বাড়িতে থাকুন, সুস্থ থাকুন।’

চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি, যাদের বয়স পঞ্চাশের উপরে করোনা আক্রান্ত হলে তাদের জীবনের ঝুঁকিটা অত্যধিক। এরপরও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ে না থেকে করোনা সংকটের শুরু থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের এমপি জাফর ভাই প্রতিদিনই করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এখানে-ওখানে বেরিয়ে পড়ছেন। উদ্দেশ্য একটাই চকরিয়া ও পেকুয়ার মানুষকে করোনা থেকে নিরাপদ রাখা।’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক চকরিয়া পৌরসভাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে গত ৭ জুন থেকে। কিন্তু প্রথমদিন থেকেই কিছু অসচেতন মানুষ এবং বহিরাগত ব্যবসায়ী এই লকডাউন না মেনে স্বাভাবিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করায় লকডাউন কার্যকরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এমপি জাফর আলম নিজেই হ্যান্ডমাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের এমপি মহোদয় একজন কর্মবীর। ওনার মতো একজন কর্মবীরের সাথে কাজ করতে পারাটা সৌভাগ্যের। এই করোনা সংকটের মধ্যেও জনগণকে সচেতন করতে এই বয়সে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে মাঠে তৎপর, তা অবাক করার মতোই। যার সাথে আমি নিজেও অংশ নিচ্ছি সচেতনতামূলক প্রচারণায়।’