‘রেড জোনে’ চকরিয়া পৌরসভা ও ডুলাহাজারার ৩টি ওয়ার্ড, কারফিউ’র মতো লকডাউন রাত থেকেই

‘রেড জোনে’ চকরিয়া পৌরসভা ও ডুলাহাজার ৩টি ওয়ার্ড, কারফিউ’র মতো লকডাউন রাত থেকেই

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনার বিস্তার ঠেকাতে এবার কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা (পুরো এলাকা) এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডকে কঠোর লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। করোনা ‘রেড জোনে’র আওতায় পড়া এসব এলাকার পরিস্থিতি অনেকটা কারফিউর মতোই হবে এবং তা স্থায়ী হবে একনাগাড়ে ১৪ দিন।

আজ শনিবার দিবাগত রবিবার প্রথমপ্রহর (৭ জুন) থেকে ১৪ দিনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। আগামী ২১ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময়ে নিয়ন্ত্রিতই থাকবে সবকিছু। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিলের আওতায় থাকবে এই লকডাউন।

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এসব এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ‘রেড জোন’ হিসেবে শনাক্ত করে ১৪ দিনের লকডাউন করা হয়েছে মর্মে আজ শনিবার বিকেলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ।

এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ। প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম।

উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর মো. জুবায়ের, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরীসহ করোনা প্রতিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রেড জোনের আওতায় পড়া এলাকায় ১৪ দিনের লকডাউনটি কার্যকর করা হবে অনেকটা কারফিউর মতোই। এইসময়ে
সর্বসাধারণকে কার্যত বাড়িতেই অবস্থান করতে হবে। কেউ বাহির থেকে আসলেও তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউন চলাকালীন কর্মহীন যে সকল শ্রমজীবী পরিবার রয়েছে তাদের তালিকা করে বাড়ি বাড়ি খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।’

তাঁর মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গণপরিবহন চলাচল করবে, তবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানাতে বাধ্য করা হবে।

রেড জোন এলাকায় সর্বসাধারণের উদ্দেশে জারি করা ‘জরুরী ঘোষণা’ বিজ্ঞপ্তিতে যা আছে
সব ধরণের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। সকল জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবেন।

রেডজোন এলাকায় ইজিবাইক টমটম, সিএনজিসহ সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সব ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারী গাড়ি চলাচলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গের (অনডিউটি) পরিবহন, কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের গাড়ি এর আওতার বাইরে থাকবে।

সব ধরণের দোকান, মার্কেট, হাট-বাজার, ফুটপাতের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র শনিবার, সোমবার ও বুধবার কাঁচাবাজার এবং শুক্রবার, শনিবার, সোমবার ও বুধবার মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা যাবে। ওষুধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে। কেবলমাত্র কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। সব হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা প্রদান এর আওতার বাইরে থাকবে।

রেড জোনে জরুরী সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদকর্মী এবং কোভিড-১৯ মোকাবেলায় রেড জোনে কাজ করার নিমিত্তে নিয়োজিত
স্বেচ্ছাসেবীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চকরিয়া কর্তৃক ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচয়পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে।

প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে কোন প্রকার ত্রাণ, খাদ্যসামগ্রী বা অন্য কোন পণ্য বিতরণ করা যাবে না। এতদ উদ্দেশে গঠিত ওয়ার্ড কমিটিসমূহ নির্দেশনাবলী কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।