কক্সবাজারের জিন্নাতের চেয়ে ৬ ইঞ্চি ছোট কুষ্টিয়ার সুবোল

সুবোল আলী। বয়স মাত্র ২২ বছর। অথচ এ বয়সেই সুবোলের উচ্চতা ৮ ফুট! তবে ব্রেইন টিউমার ছাড়াও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। সারা শরীর তার ফোলা। এ কারণে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না সুবোল।

এর আগে কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল এলাকার বাসিন্দা সদ্য প্রয়াত জিন্নাত আলীর উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি। ২৪ বছর বয়সী জিন্নাত আলী গত ২৮ এপ্রিল মারা গেছেন।

সুবোলকে চলাচল করতে হয় লাঠিতে ভর দিয়ে। দিনের পর দিন সুবোলের উচ্চতা যেন বেড়েই চলেছে। কিন্তু দরিদ্র কৃষক বাবার আর্থিক সামর্থ না থাকায় সুবোলের সঠিক চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারকে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন সুবোলের অসহায় বাবা ইউনুস আলী।

৮ ফুট উচ্চতার বিস্ময় বালক সুবোলের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামে।

সুবোলের বাবা ইউনুস আলী জানান, ১৩ বছর পর্যন্ত সুবোলের উচ্চতা স্বাভাবিকই ছিল। অন্য সবার মতো সুবোল স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু বয়স ১৩ বছর পার হতেই তার উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। মাত্র ২২ বছর যেতে না যেতেই এখন তার উচ্চতা প্রায় ৮ ফুটে ঠেকেছে। শারীরিক এ সমস্যার কারণে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি তার।

তিনি বলেন, নিজের ও স্ত্রীর উচ্চতা স্বাভাবিক। সুবোলরা দুই ভাই এক বোন। বোন সবার বড়। সে মেজ। অন্য ভাই-বোনদের উচ্চতা অন্য সবার মতো স্বাভাবিক। কোনো সমস্যা নেই। সুবোল এতটাই লম্বা যে লাঠি ভর দিয়ে ছাড়া চলাফেরা করতে পারে না। উচ্চতা সমস্যার কারণে ঘরে ঢোকা এবং বের হওয়ার সময় তাকে সমস্যায় পড়তে হয়।

সুবোল জানান, তিনি লাঠি ভর দেয়া ছাড়া বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। চলাফেরা করতে হয় লাঠিতে ভর দিয়ে। দিনদিন তার পা ফুলে যাচ্ছে। এছাড়া শরীরের নানা স্থানে ফোলা রোগ দেখা দিয়েছে। ভুগছেন ব্রেইন টিউমার জনিত সমস্যায়।

সুবোলের পরিবার জানায়, বেশি লম্বা হতে শুরু করলে তাকে রাজশাহীসহ জেলা শহরে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। হরমনের সমস্যার কারণে সুবোলের উচ্চতা দিন দিন বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাভাবে বর্তমানে তার চিকিৎসাই বন্ধ রয়েছে।

সুবোলের অসহায় বাবা বলেন, চোখের সামনে ছেলেটাকে এভাবে বাড়তে দেখছি। কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এদিকে সুবোলের উচ্চতার কারণে তাকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

রিফায়েতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু জানান, এর আগে প্রতিবেশীসহ আমরা অনেকেই কম-বেশি করে সুবোলের চিকিৎসার জন্য যতটুকু সম্ভব সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করেছি। কিন্তু সুবোলের বর্তমান যে শারীরিক অবস্থা তাতে চিকিৎসা বেশ ব্যয় বহুল যা সুবোলের দরিদ্র বাবার পক্ষে সম্ভব নয়। তার জন্য সমাজের সহৃদয় বিত্তবান কোনো ব্যক্তি কিংবা সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!