চকরিয়ায় করোনায় তিনজন ও উপসর্গে একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৬

মৃত্যুর পরদিন জানা গেল আবুল হাশেম ‘করোনা পজিটিভ’

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের ‍বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত মারা গেছেন সত্তর বছরের এক নারীসহ চারজন। তন্মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে মারা গেছেন ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী এবং সকালে জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান সত্তরোর্ধ ওই নারী।

এনিয়ে আজ একদিনেই চকরিয়ার দুইজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর আগে গত ২১ মে একজন এবং ২৫ মে আরো একজন মারা যান করোনায়। মারা যাওয়া চারজনেরই বয়সও ৬৫ থেকে ৭০ এর মধ্যে। তবে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি সবাই আগে
থেকেই অন্য রোগেও আক্রান্ত ছিলেন।

তবে জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে উপজেলাভিত্তিক করোনা পরিস্থিতির চিত্রে শুক্রবার পর্যন্ত চকরিয়ায় মৃতের সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে মাত্র একজন। আক্রান্ত ১৫৬ জন ও সুস্থ ৭০ জন।

মারা যাওয়া চারজন হলেন চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী গ্রামের বদিউল আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭০), পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাজীরপাড়ার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে নুরুল হোসেন সওদাগর (৬৫), দুই নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মৌলানা আবদুর রহমানের ছেলে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন চকরিয়া অফিসের কেয়ারটেকার হাফেজ সিরাজ-উদ্দৌলা (৬৫) ও উপজেলার কৈয়ারবিল
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহীদ হোছাইন চৌধুরী (৭০)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চারজনের মধ্যে প্রথমজন মারা যান কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। পরের দুইজন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। চতুর্থজন শহীদ হোছাইন চৌধুরী মারা যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে। হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে শহীদ হোছাইন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে লেখা রয়েছে।

শহীদ হোছাইনের বিষয়ে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. আমান উল্লাহ জানান, তিনি মারা যাওয়ার আগে স্ত্রী খাইরুন্নেছাসহ দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ২৫ মে দুইজনের ফলাফলে স্ত্রীর নেগেটিভ এবং স্বামী শহীদ হোছাইনের পজিটিভ আসে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ জানান, সর্বশেষ মারা যাওয়া নুরুল হোসেনের পরিবারের তিন সদস্যই করোনা আক্রান্ত। তিনজনেরই নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হলে প্রথমবার পজিটিভ আসে। এরপর দ্বিতীয়বার নমুনা পাঠানো হলে নেগেটিভ আসে। এই অবস্থায় গত ২৬ মে নুরুল হোসেনকে ছাড়পত্র দিয়ে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।’

ডা. শাহবাজ বলেন, ‘যেহেতু ১৪ দিন বাড়িতে আলাদা কক্ষে থাকাবস্থায় তাঁর (নুরুল হোসেন) শ্বাসকষ্ট বেড়েছে, সেহেতু তিনি করোনা উপসর্গ নিয়েই মারা গেছেন। অপরজন হাফেজ সিরাজ-উদ্দৌলাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মারা যাওয়ার একদিন আগেই তাঁর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। আজ জেলা সদর হাসপাতালে মারা যাওয়া আনোয়ারা বেগমও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।’

মালুমঘাট হাসপাতালে মারা যাওয়া নুরুল হোসেনের পরিবার সূত্র জানান, তিনি ১৪ দিন বাড়ির আলাদা কক্ষে থাকাকালিন গত বৃহস্পতিবার সকালে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভবের সাথে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ সময় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও কোন আইসিইউ’র ব্যবস্থা করতে না পারায় বাড়িতে নিয়ে আসেন রাতেই। এরপর তাকে নেয়া হয় মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মারা যান।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল আলম তাবরীজ বলেন, ‘উপজেলায় এই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে এক নারীসহ চারজন মারা গেছেন। তন্মধ্যে একজন চট্টগ্রামে, দুইজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন এবং অপরজন নারী জেলা সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। সেই নারীর দাফন-কাফন করোনাবিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পত্রও পাঠিয়েছেন।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!