করোনার সঙ্গে ‍বাড়ছে ডেঙ্গুর আতঙ্ক

করোনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো কিশোরগঞ্জ জেলায়। এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জেলায়। মারা গেছেন আট জন। এরই মধ্যে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ট শহরবাসী। করোনা দুর্যোগের মধ্যে ডেঙ্গুর আতঙ্ক ভর করেছে। দ্রুত ব‌্যবস্থা না নিলে পরিণতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৩৮৫ জন জন। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ২ দুই হাজারের বেশি।

গতবছর এই সময়ে জেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাই অনেকে মনে করছেন করোনাকালে জ্বর, সর্দি বা শরীর ব্যথা হলে শুধু করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করাটাই যথেষ্ট নয়। সেই সঙ্গে ডেঙ্গু আছে কিনা সেটাও পরীক্ষা করে দেখা উচিত। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

জমে থাকা পানিতে জন্মেছে মশার লার্ভা

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলি-গলিতে ড্রেনে মশার বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য ছোট ছোট গর্ত ও ময়লা-আর্বজনার স্তূপে পানি জমছে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের আবর্জনা পানি জমে মশার উৎকৃষ্ট প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এই জায়গাগুলো।

পৌরবাসিন্দা কৃষ্ণকান্তি বণিক জানান, দিনের বেলাতেও মশা কামড়ায়। ঘরে টেকা মুশকিল হয়ে পড়ে। বাধ‌্য হয়ে দিনেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। যেভাবে মশার উপদ্রব বাড়ছে এতে ডেঙ্গুর আতঙ্ক বাড়ছে। গতবছরও এ সময়ে ডেঙ্গুর প্রভাব ছিল কিশোরগঞ্জে। এখন পর্যন্ত মশা নিধনের কোনও ওষুধ এলাকাতে দেওয়া হয়নি। একদিকে করোনা আতঙ্ক তারমধ‌্যে ডেঙ্গু। আ মরাতো এখন অসহায় হয়ে পড়েছি।

আরেক বাসিন্দা আল-আমিন হোসেন জানান, শহরের অনেক জায়গাতেই অস্বাস্থ‌্যকর পরিবেশ ও নর্দমা। যার ফলে দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মশার অত‌্যাচার। বিশেষ করে সন্ধ‌্যার পর দোকানপাট ও বাসা-বাড়িতে মশার উপদ্রব সৃষ্টি হয়। যদি এখনই মশার বংশবৃদ্ধি নিধনের যথাযথ ব‌্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে করোনার সঙ্গে ডেঙ্গুও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাবে।

জমে থাকা পানিতে জন্মেছে মশার লার্ভা

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলার সঙ্গে সঙ্গে এরইমধ্যে আমরা শহরের বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন কার্যক্রমও শুরু করছি। ফগার মেশিনের মাধ‌্যমে শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও ড্রেনে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যে মেডিসিন ব্যবহার করে সেগুলোই আমরা সংগ্রহ করে এনেছি।

সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, এখন যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রভাবও বাড়বে। গত বছরও এমন সময়ে ডেঙ্গুর একটা প্রভাব ছিল। আর তাই পরীক্ষা জন‌্য ডেঙ্গুর কীট আনা হয়েছিল। এর মধ‌্যে এখনও আমাদের কাছে বেশকিছু কীট রয়েছে। সেগুলো কিন্তু আমাদের এমন দুর্যোগে কাজে আসবে। তাছাড়া অনেক জায়গায় এটা কিনতে জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া আছে। ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ‌্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতিও নিয়েছে। তবে এমন সময়ে সাধারণ মানুষকেও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!