রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে অপহৃত যুবকের হাত বাঁধা লাশ মিলল খালে

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া থেকে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসিদের হাতে অপহৃত আব্দুর রশিদের হাত বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের উলুবনিয়া ও উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী আঞ্জুমান খালে মৃতদেহটি পাওয়া যায়।

স্থানীয় সুত্র মতে, কাঁকড়া শিকারের সময় মোস্তাফিজ নামে এক ব্যক্তি হাত বাঁধা ও মাথা, নাক-মুখে আঘাতের চিহ্নসহ একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে লোকজনকে খবর দেন।

লোকজন এসে এই মৃতদেহ রোববার ভোররাতে মৎস্যঘের থেকে অপহৃত কাটাখালী পূর্ব পাড়ার মিয়া হোছনের ছেলে আব্দুর রশিদ ওরফে সাদেকের বলে শনাক্ত করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের হাতে অপহৃত আব্দুর রশিদের হাত বাঁধা এবং মাথা ও নাক-মুখে আঘাতের চিহ্ন সম্বলিত মৃতদেহ পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি মেম্বার তাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পরে পুলিশ এসে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহত রশিদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে অপহৃত যুবকের হাত বাঁধা লাশ মিলল খালে

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে ভোররাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী পাহাড়ি এলাকায় একদল স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত নেমে আসে। তাদের সাথে ইতোপূর্বে অপহৃত ইদ্রিসও ছিলেন।

ওই সময় ডাকাত দল হৈ চৈ শুরু করলে মৎস্যঘেরে থাকা পূর্ব ঊলুবনিয়া রাস্তার পশ্চিম পাশে কাটাখালী পূর্ব পাড়ার মিয়া হোছনের ছেলে আব্দুর রশিদ ওরফে সাদেক টর্চ লাইটের আলো ফেলে তারা কারা জানতে চায়? তখন ডাকাত দল ক্ষুদ্ধ হয়ে ঘেরে থাকা লোকজনের উপর চড়াও হয়। ওই ফাঁকে তাদের সাথে আনা অপহৃত ইদ্রিস পালিয়ে যান। তখন ডাকাত দল ক্ষুদ্ধ হয়ে আব্দুর রশিদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান ও পুলিশকে জানানো হয়। পরে রোববার সারাদিন পুলিশ ও গ্রামবাসী পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে তল্লাশি চালালেও আবদুর রশিদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ে অবস্থানকারি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসিরা মাদকের চালান খালাস করার জন্য নাফনদীর দিকে নেমে এসেছিল। মৎস্যঘেরে অবস্থানকারি লোকজনের কারণে তাদের মাদকের চালান খালাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

ইতোপূর্বে বিজিবি ও পুলিশের হাতে একাধিক ইয়াবার চালানসহ রোহিঙ্গা বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। তাই তাদের মাদক বাণিজ্য অবাধ করার জন্য ঘেরে অবস্থানকাররি লোকজন ধরে নিয়ে খুন করা হচ্ছে।

অপরদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসিদের অপকর্মে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ক্রমশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছেন।

রোহিঙ্গা অপরাধীদের বেপরোয়া অপকর্ম এবং স্থানীয়দের হত্যার বিষয়টি কঠোর হাতে দমনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন মহলের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!