বাড়ি ফেরার পথে মাদ্রাসা ছাত্রীসহ ৫ জনকে পেটাল দুর্বৃত্তরা, পেকুয়ার ৩ গ্রামে উত্তেজনা

বাড়ি ফেরার পথে মাদ্রাসা ছাত্রীসহ ৫ জনকে পেটাল দুর্বৃত্তরা, পেকুয়ার ৩ গ্রামে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় নানা-নাতনির শালিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাদ্রাসা ছাত্রীসহ ৫ জনকে পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। পেকুয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মগকাটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওই এলাকার আবুল শামার স্ত্রী ছুরুত জামাল (৪৮), ছেলে নেছার আহমদ (২৫), মেয়ে আনারকলি (২২), দক্ষিণ বটতলীয়া পাড়া এলাকার কামাল হোসেনের স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪৮) ও মেয়ে পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ১ম বর্ষের ছাত্রী হিরা মনি (১৭)।

সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন গ্রামবাসির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আবুল শামার ছেলে নেছার আহমদ ও তার নানা দক্ষিণ বটতলীয়া পাড়ার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমানের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গত বুধবার (২০ মে) হাতাহাতি হয়। নানা-নাতির সৃষ্ট বিষয় নিয়ে এদিন সকালে বটতলীয়া পাড়া ষ্টেশনে শালিসি বৈঠক হয়।

বৈঠকে সদর ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আলী হোসেন, বটতলীয়া পাড়া সমাজপতি ও মগকাটা সমাজপতিরাসহ প্রতিনিধিগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শালিসকাররা নানা-নাতির বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন।

এদিকে বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে নেছার আহমদকে মইয়াদিয়া গ্রামের ফয়েজ আহমদের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

দক্ষিণ বটতলীয়া পাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুবক্কর ছিদ্দিক, সহ-সভাপতি মাহমুদুল করিম, স্থানীয় আকবর আহমদ জানান, আমরা মেম্বার সাজ্জাদসহ দুই সমাজের সমাজপতিরা মিলে নানা-নাতির ভুল বুঝাবুঝি মিমাংসা করে দিয়েছি।

তারা বলেন, শুনেছি শালিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে আবুল শামা গংদের উপর হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

মগকাটা সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নানা-নাতির বিরোধ সমাধা করে দিয়েছি। বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলা করা হয়েছে। যারা চামলা চালিয়েছে তারা মইয়াদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বৈঠক শেষে মোটর সাইকেলে নেছার আহমদকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে আমি বাড়িতে চলে আসি। পরে শুনেছি তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। আমি তাৎক্ষনিক বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।

প্রত্যক্ষদর্শী সালাহ উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, হারুনুর রশিদ, মমতাজ বেগম ও জামালু বেগম জানান, ফয়েজ আহমদ, ছেলে জয়নাল আবেদীন, হেলাল উদ্দিন, কামাল হোসেনের ছেলে আব্দু রহিম, আশরাফ মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন, লাল মিয়ার ছেলে মুহাম্মদ সেলিমসহ ১০/১২ জনের উশৃংখল যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আবুল শামার বাড়িতে গিয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তাদের আহত করে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ এসে জখমীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আবুল শামা ও কামাল হোসেন বলেন, হামলাকারী ফয়েজ আহমদের সাথে পুর্ব থেকে আমাদের বিরোধ ছিল। ছেলে নেছার আহমদকে সাজ্জাদ মেম্বার ও আজিম হোন্ডা করে বাড়িতে পৌছে দেয়। তখন আমরা বটতলীয়া পাড়া ষ্টেশনে ছিলাম। ছেলের উপর হামলার খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে পৌছামাত্র আমাদের উপর দা, কিরিচ নিয়ে হামলা চালায়। বাড়ি ভাংচুরসহ লুটপাট চালায় তারা।

তারা বলেন, শত শত গ্রামবাসি হামলার দৃশ্য দেখেছে। পুর্ব শত্রুতার জের ধরে তারা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছি। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, ফয়েজ আহমদ ওরফে ফজু একজন ঝগড়াটে প্রকৃতির লোক। সব সময় হামলা-মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তার অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসি। এলাকার প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহস পায় না। সবাই তাকে হামলা ও মামলাবাজ হিসেবে চিনে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মইয়াদিয়া, বটতলীয়া পাড়া ও মগকাটা এই তিন গ্রামবাসির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে ফের রক্ষপাতের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!