‘ইমার্জেন্সি রোগী’র গাড়িতে সবাই কক্সবাজারগামি যাত্রী!

‘ইমার্জেন্সি রোগী’র গাড়িতে সবাই কক্সবাজারগামি যাত্রী!

বিকেল ৫টা। ইফতারের খানিক আগে কর্মজীবীদের নগর ছেড়ে যাওয়ার তাড়া। সে সময় হঠাৎ-ই শাহ আমানত সেতু এলাকায় পৌঁছাল মাইক্রোবাসটি। গায়ে ‘ইমার্জেন্সি রোগী’ স্টিকার লাগানো। স্টিকার দেখেই ব্যস্ত পুলিশ সদস্যরা গাড়িটি ছেড়ে দিল।

কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে পুরো বিষয়টি খেয়াল করছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম। পুলিশি পাহারা ডিঙিয়ে গাড়িটি কক্সবাজারের পথে যাত্রা করতেই নিজের দল নিয়ে দ্রুত শাহ আমানত সেতুর মাঝপথে চলে যান তৌহিদুল। ‘ইমার্জেন্সি রোগী’ স্টিকার লাগানো গাড়িটি থেকে একে একে নামিয়ে আনেন যাত্রীদের। যারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভাড়া গাড়িতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। খবর জাগোনিউজের।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়িতে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাস ব্যক্তিগত গাড়ি বানিয়ে আবার রোগী পরিবহনের কথা বলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার, ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী অভিমুখে সিটি গেট অতিক্রম করে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করছে কিছু অসাধু চালক।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিকাল ৫টার দিকে বাকলিয়ার শাহ আমানত কর্ণফুলী ব্রিজের ওপর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ বান্দরবান এবং কক্সবাজার অভিমুখী গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।’

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযান পরিচালনার সময় একটি মাইক্রোবাস আটক করা হয়। মাইক্রোবাসের গায়ে ‘ইমার্জেন্সি রোগী’ স্টিকার লাগানো ছিল। কিন্তু মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করতে গিয়ে দেখতে পাই, মাইক্রোবাসের ভেতর সবাই কক্সবাজারগামী যাত্রী। শাহ আমানত সেতুর ট্রাফিক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে মাইক্রোবাসটি শাহ আমানত ব্রিজের মাঝপথে চলে আসে। বিষয়টি খেয়াল করে আমি একটি টিম নিয়ে গাড়িটি থামাই সেতুর ওপরই। এ সময় মাইক্রোবাসচালক এবং যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ মাইক্রোবাসে কক্সবাজার অভিমুখে তিন পরিবার চট্টগ্রাম ছাড়ার চেষ্টা করছিল।’

তিনি বলেন, ‘একই গাড়িতে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘপথ ভ্রমণ করলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল। এ অপরাধে ড্রাইভারকে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই তিনটি পরিবারের যাত্রীদের চট্টগ্রাম শহরে তাদের নিজ বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযানে চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ বান্দরবান এবং কক্সবাজার অভিমুখী ১৫টি মোটরসাইকেলের চাবি জব্দ করা হয়। মোটরবাইকের যাত্রী এবং চালকদের নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!