কুতুবদিয়া ইউএনওর গণবিজ্ঞপ্তি, ‘শিবির ক্যাডার’ জাহিদ বহিষ্কার

কুতুবদিয়ার ইউএনওর গণবিজ্ঞপ্তি, ‘শিবির ক্যাডার’ জাহিদ বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

অনেক নাটক, অনেক লাইভ। পুলিশের সাথে অনেক ছলচাতুরি। অতঃপর জেলে যাওয়ার ৫ দিনের মাথায় কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ার আলোচিত সেই ‘শিবির ক্যাডার’ জাহিদুল ইসলামকে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক কমিটির তালিকা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্র ও স্যোশাল মিডিয়া ফেসবুকের অনেক স্কিনশট থেকে জানা যায়, এই ‘শিবির ক্যাডার’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের রাজনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজ ফেসবুক আইডিতে অনেক আপত্তিকর লেখালেখির অভিযোগে পুলিশ তাকে গত ১৭ মে ভোর রাতে আটক করে।

আটকের পর কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে ওই ‍যুবকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন এবং তাকে জেলে পাঠানো হয়।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দ্বীপটির ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নেই জামায়াত-শিবিরের তৎপরতা বেশি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হবার কারণে দ্বীপের জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারগণ বরাবরই আমার ওপর নানা কারণে ক্ষিপ্ত।’

ওসি জানান, শিবির ক্যাডার জাহেদুল ইসলাম কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর লেমশীখালী গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মওলানা মঈনুল হক কুতুবীর ছেলে। জাহেদুল দ্বীপের আল ফারুক মাদরাসা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তার পুরো পরিবারই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি জানান, জাহিদ তার ফেসবুক আইডিতে প্রায়শই সরকারবিরোধী আপত্তিকর লেখালেখি করার কারণে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে আটকের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গত ১৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ তার ঘর ঘেরাও করলে সারারাত ধরে পুলিশকে নাকানি-চুকানি খেতে হয়েছে। পুলিশ যখন তাকে ধরার জন্য ঘর ঘিরে ফেলে তখনই দরজা-জানালা সব বন্ধ করে দিয়ে জঙ্গি ষ্টাইলে ওই যুবক পুলিশের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লাইভ দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে প্রতিরোধ গড়ারও চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ভোরের দিকে পুলিশ তাকে আটক করতে সমর্থ হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘আটকের আগে তাকে যতটুকু চেনা যায়নি, কিন্তু পরে তার ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে। আটক হওয়া শিবির ক্যাডার তার ফেসবুক আইডিতে জাতির জনককে নিয়ে এমনই এক মন্তব্য লিখেছেন যা উচ্চারণযোগ্য নয়।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘শিবির ক্যাডার জাহিদকে আটকের পর অনেক ব্যারিস্টার, রাজনীতিক, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও তাকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।’

কুতুবদিয়ার ইউএনওর গণবিজ্ঞপ্তি, ‘শিবির ক্যাডার’ জাহিদ বহিষ্কার

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, আটক হওয়া শিবির ক্যাডার কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন গঠিত ত্রাণ বিতরণের স্বেচ্ছাসেবক কমিটির একটি ইউনিয়ন শাখার প্রধান। উপজেলা প্রশাসন দ্বীপে এরকম ১৩০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু ওই কমিটিতে সরকার সমর্থিত সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্থান হয়নি।

এসব বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেজবাহুর রহমান তুহিন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু জাফর সিদ্দিকী ও যুগ্ম আহবায়ক সেলিম উদ্দিন লিটন জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক কমিটিতে তাদের সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীকে রাখা হয়নি। বরং বেশির ভাগই স্থান পেয়েছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক কমিটির একজন সদস্য হয়েও অর্থাৎ সরকারের ভেতর থেকেই কৌশলে জাহিদুল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আটকের ৫ দিনের মাথায় তাকে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম পিতা-মঈনুল হক নামে এক স্বেচ্ছাসেবককে পুলিশ আটক করে এবং পরবর্তীতে শোনা যায় যে, সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অবগত ছিল না। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োজিত করার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন তাকে শুধুমাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসাবেই বিবেচনা করত। তার উল্লিখিত বিতর্কিত বিষয়ের খবর শোনার পর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তাকে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’

গণবিজ্ঞপ্তিতে ইউএনও বলেন, কোন স্বেচ্ছাসেবক কোন বিতর্কিত বিষয়ে জড়িত থাকলে উপজেলা প্রশাসন এর দায় নেবে না।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!