ঈদগাঁওতে আবারও গভীর রাতে ৪ গরু লুট

ঈদগাঁওতে আবারও গভীর রাতে ৪ গরু লুট

ঈদগাঁও মাইজপাড়ার এই বাড়ি থেকেই গভীর রাতে গরু লুট হয়।

আনছার হোসেন, সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও ইউনিয়নে আবারও গরু লুটের ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়নের মাইজপাড়া থেকে ৬ জন অস্ত্রধারি ট্রাক নিয়ে এসে এক প্রবাসির বাড়ি থেকে ৪টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। ওই সময় প্রত্যক্ষদর্শী দুই পথচারিকে রাস্তার পাশে বেঁধে রেখে ওই গরু লুট করা হয়।

শনিবার (২৩ মে) মধ্যরাত ২টার দিকে মাইজপাড়ার নুরুল আলমের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

সুত্র মতে, ইতোপূর্বেও বহুবার এমন গরু লুটের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোন সুরাহা করতে পারেনি। অভিযোগ উঠেছে, গত ২১ মে রাতে গরু লুট যাওয়ার পথে একটি ট্রাক ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ জব্দ করলেও একজন পৌর মেয়রের ‘বকাবকি’র কারণে ছেড়ে দিতে হয়েছে।

প্রবাসি সেলিম উল্লাহ সেলিম জানান, নুরুল আলমের বাড়িটি তার বোনের বাড়ি। ওখানে নুরুল আলম, তার স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে থাকেন। বড় ছেলে লন্ডন প্রবাসি ও মেজো ছেলে দুবাই প্রবাসি। আর ছোট ছেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছেলেরা বাড়ি না থাকার সুযোগে অস্ত্রধারি লুটেরা দল বাড়ির তিনটি তালা ভেঙ্গে ৪টি গরু নিয়ে গেছে।

তিনি প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, গরু লূটের দলে ৬ ছিল। তাদের মধ্যে ৫ জনের হাতে অস্ত্র ছিল। তারা মেহেরঘোনার মরহুম মোস্তাক আহমদের বাড়ির দক্ষিণ পাশের রাস্তা (মাইজপাড়া সংযোগ সড়ক) দিয়ে গরু গুলো নিয়ে যায়।

তার মতে, ৪টি গরুর মধ্যে দুইটি লাল গাভী ছিল। একটি এক সপ্তাহের মধ্যে বাচুর প্রসব করবে। আরেকটি আগামি নভেম্বরের দিকে বাচুর দেয়ার কথা রয়েছে। লুট করার গরুর মধ্যে দুইটি লাল বাচ্চা গরুও ছিল।

প্রবাসি সেলিম উল্লাহ সেলিম জানান, গত পরশু (২১ মে) রাতেও ঈদগাঁহ বাস স্টেশনে এরকম একটি গাড়ি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র জব্দ করেছিল। তিনি দায়িত্ব নিয়ে বলছেন, ওই গাড়ি একজন পৌর মেয়রের (কক্সবাজারের নয়) পুলিশ কর্মকর্তাকে বকাবকি করে গাড়িটি ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন।

ওই লুট হওয়া গরুর মালিকের একজন নিকটাত্মীয় তাকে জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ওই পৌর মেয়রের ফোন পেয়ে হতাশ হয়ে গরুসহ ট্রাকটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তার দাবি, ওই সময় সেই ব্যক্তি পুলিশের কাছাকাছি ছিলেন। সেই সময় ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের কাছের ফারুক নামের এক ব্যক্তি ও তার মাইক্রোচালক ওই গরু ছাড়িয়ে নিতে জোর তদবির করেছিলেন।

ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) ও পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে গরু লুটের ঘটনা তিনি জানেন না।

গত ২১ মে গরুসহ গাড়ি জব্দ করার বিষয়টিও সত্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!