চকরিয়ায় ‘করোনা’র সেঞ্চুরি, একদিনেই শনাক্ত ১৯

করোনা ‘হটস্পট’ চকরিয়ায় সর্বাধিক ৫৩ রোগী, সদরে ৩৫ আর দুইদিনে ৪ রোহিঙ্গা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার জেলার করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের সংখ্যায় সেঞ্চুরি পার করেছে চকরিয়া উপজেলা। শুক্রবার (২২ মে) একদিনেই করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৯ জন। এ নিয়ে চকরিয়াতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬ জনে।

শুক্রবার জেলায় ১৭৪ জন রোগীর নমুনা টেষ্টের ফলাফলে ২৮ জন পজিটিভ আসে। তন্মধ্যে শুধুমাত্র চকরিয়া উপজেলায় করোনা পজিটিভ আসে একসঙ্গে ১৯ জনের।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামফেরত গার্মেন্টকর্মীর শরীরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্তের মধ্যদিয়ে করোনায় প্রবেশ করে চকরিয়া উপজেলা। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এখানে। অবশ্য প্রথম শনাক্ত হওয়া গার্মেন্টকর্মী ও তার বৃদ্ধ বাবাসহ এরইমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩৫ জন করোনা রোগী। তন্মধ্যে পেকুয়া এবং কুতুবদিয়ারও কয়েকজন করোনা রোগী রয়েছেন। তারা চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেডিকেটেড আইসোলেশন ইউনিট তথা করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ডা. শাহবাজ জানান, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে স্থাপন করা ৫০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিটে প্রতিদিনই করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছেন। পেকুয়া এবং কুতুবদিয়ার রোগীদেরও এখানে ভর্তির জন্য পাঠানো হচ্ছে। সেই হিসেবে বর্তমানে ৫০ শয্যার এই আইসোলেশনে ৩০ জন মতো করোনা রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কোনভাবেই সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে শতভাগ সফলতা আসছে না। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কয়েকদিন আগে থেকে পুরো জেলার সকল বিপনিবিতান বন্ধ ঘোষণা করলেও প্রশাসনের সাথে অনেকটা লুকোচুরি খেলায় মত্ত রয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিব্যি দোকান খুলে ব্যবসা করছেন তারা। আর অসচেতন সাধারণ মানুষও সেখানে সওদা করতে ভিড় করছেন।

এই অবস্থা বেশি দেখা দিচ্ছে ইউনিয়নগুলোতে। প্রতিদিন খুব ভোরে ইউনিয়ন পর্যায়েও গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অভিযান চালালেও ফের দোকান খুলে বসছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতেই দিন দিন করোনার হটস্পটে পরিণত হয়ে উঠেছে চকরিয়া উপজেলা।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘প্রতিদিন যে সকল ব্যক্তির করোনা পজিটিভ আসছে, তাদের বাড়ি লকডাউন করাসহ সংস্পর্শে আসা আত্মীয়-স্বজনদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য উপজেলার কোন ব্যক্তি যাতে চকরিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য মহাসড়কের দুই স্থানে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’

করোনার সংক্রমণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিদিন ভোরে একাধিক ইউনিয়নে গিয়ে বিপনিবিতানে অভিযান চালানো হচ্ছে। যাতে করোনার সংক্রমণ রোধ করা যায়।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!