আহমদ গিয়াসের বাস্তুসংস্থান চিন্তা

‘এই দারিদ্রতা’ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে পাওয়া!

‘এই দারিদ্রতা’ আল্লাহর কাছ থেকে প্রার্থনা করে পাওয়া!

আহমদ গিয়াস, সাংবাদিক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

নিশ্চয় সৃষ্টিকর্তা আমার উপর কোন জুলুম করেননি। তিনি তো কখনও কারো উপর জুলুম করেন না। আমি কি তাঁর কাছে এই দারিদ্রতা প্রার্থনা করিনি?

হ্যাঁ, আমার স্পষ্ঠ মনে আছে যে, চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার সময় আমি যখন কোন সুনশান বিল্ডিংয়ের সামনে দিয়ে যেতাম; মনে মনে প্রার্থনা করে বলতাম- আল্লাহ আমাকে কখনও এমন উচুঁ বিল্ডিংয়ের মালিক বানিও না, যেখান থেকে নীচের মানুষগুলোর দিকে তাকালে তাদের দেখতে ঘৃণা লাগে!

তখন এই প্রার্থনা কতবার যে করেছি, তা আল্লাহই ভাল জানবেন। তবে মহান সৃষ্টিকর্তা যে আমার মনে মনে করা এই চাওয়াটুকু মঞ্জুর করেছেন; তা আমি নিশ্চিত। সুতরাং আমার রব আমার উপর কোন জুলুম করেননি। তিনিতো একইভাবে আমার মনে মনে চাওয়া আরো অনেক প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। কত শত দৃষ্টান্তের কথা আমি বলব? তবে ২টি ঘটনার কথাই বলি।

২০০৪-০৫ সালে কক্সবাজার থেকে সোনারপাড়া পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ চলছিল। রিপোর্টের কাজে এই সড়কটিতে মাঝেমধ্যেই ভ্রমণ করতাম। যাওয়া-আসার পথে দরিয়াছড়া ব্রীজের পূর্বদিকে বড়ছড়া খালপাড় ও রেজু নদীর ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার প্রকৃতি আমি মনভরে উপভোগ করতাম। মনে মনে বলতাম, আল্লাহ এখানে যদি আমার একটি বাড়ি থাকত!

আল্লাহ আমার দুটো প্রার্থনাই মঞ্জুর করেছেন। ২০০৭ সালে আমার এক বন্ধুর বড় ভাই ডা. ফজলে আকবর চৌধুরী সোনারপাড়ার রেজু নদীর মোহনা থেকে জমি কেনেন। জমি কেনার কাজে আমি তাকে সহযোগিতা করেছিলাম। আর এজন্য তিনি আমাদের দুই বন্ধুকে (তার ছোটভাইসহ) বিনামূল্যে ২.২৫ শতক করে ৪.৫ শতক বা মোট ক্রয়কৃত জমির ২৫% রেজিস্ট্রি করে দেন।

দরিয়ানগরের সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত ছোট্ট ভিটেবাড়িটির জন্যও বেশি টাকা খরচ করতে হয়নি।

তিনি তো সেই আল্লাহ, যার কাছে চাওয়ার জন্য আমার কাবাঘরে যেতে হয়নি, কোন মিলাদ পড়াতে হয়নি, কোন পীরের কাছে বা মাজারে গিয়ে দান খয়রাত করতে হয়নি; কেবল মনে মনে প্রত্যাশা করেছিলাম।

আমি তাঁর আর কয়টি অবদানের কথা উল্লেখ করব? আমি কি পারব তাঁর অবদানের কথা বর্ণনা করে কভু শেষ করতে?

তবু বলি, দরিয়ানগরের কথা। যেখানে আমি প্রায় সাড়ে ৫ বছর আগে বসতি গেঁড়েছি। আর এতেই আমার প্রকৃতি পাঠের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বানরের পাহাড়, তার পশু-পাখি, তার প্রত্মতত্ত্ব, তার ভূ-তত্ত্ব, ভূ-রসায়ন, রূপতত্ত্ব, সৈকতের বালিয়াড়ি, সাগরলতা, শামুক-ঝিনুক, লাল কাঁকড়া; আরো কত কি? যতই পাঠ করি, ততই মুগ্ধ হই। আমার মনে হয়, আমিও সাগরলতা বা লাল কাঁকড়ার মতোই প্রকৃতির একটি প্রজাতি। যেখানে আমারও নিয়মিত ডিউটি বন্টন করা হয়েছে।

স্রষ্টার ভয়ে, স্রষ্টার অর্পিত যার যার ডিউটি যথাযথভাবে পালন করাই তার জন্য ইবাদত। আর যার যার ইবাদত নির্বিঘ্নভাবে তাকে করতে দেয়াই হবে পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় শ্রেষ্ট বাস্তুসংস্থান।

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজারে কর্মরত একজন সিনিয়র সাংবাদিক। বর্তমানে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক আজাদীর কক্সবাজার সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। দারিদ্রতা তার নিত্যসঙ্গী। সেই দারিদ্রতা নিয়েই তিনি লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই লেখাটি তিনি ২২ মে মধ্যরাত ১২টা ৬ মিনিটে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!