ঘুর্ণিঝড় আম্ফান : কুতুবদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ

ঘুর্ণিঝড় আম্ফান : কুতুবদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ

ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সামুদ্রিক অস্বাভাবিক ঢেউয়ের তোড়ে এভাবে ভেঙে যায় কুতুবদিয়ার বেড়িবাঁধ।

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ঘুর্ণিঝড় আম্ফান কক্সবাজারে বড় ধরণের আঘাত না হানলেও দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্র তীরবর্তী বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়েছে। আম্ফানের প্রভাবের সাথে যোগ হয়েছে অমাবস্যার জোঁয়ারের প্রভাবও। এতে দুই উপজেলার সমুদ্র তীরের বেড়িবাঁধ বিভিন্নস্থানে ভেঙে সাগরবক্ষে তলিয়ে যায়। এই অবস্থায় জোয়ারের প্রভাব অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন লোকালয়েও ঢুকে পড়েছে সামুদ্রিক অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি।

এদিকে ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে দমকা হাওয়ার সাথে থেমে থেমে মাঝারি আকারের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসন ৮ উপজেলায় ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে জেলাবাসীকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ আগে থেকেই গ্রহণ করেছিল। এমনকি উপকূলীয় উপজেলাগুলোর কয়েক লাখ লোককে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রেও নিয়ে আসা হয়েছিল।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন সার্বক্ষণিক ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিজেই মনিটরিং করেন।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় ঘরবাড়ির তেমন ক্ষতি না করলেও বড় ধরণের আঘাত হেনেছে দ্বীপের রক্ষাকবচ বেড়িবাঁধে।

তিনি জানান, ভয়াবহ জ্বলোচ্ছ্বাসের তোড়ে কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরুং ইউনিয়নের কাইছার পাড়া ও নয়াপাড়া বেড়িবাঁধের বিশাল অংশ সাগরবক্ষে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে দ্বীপের ৭১ নম্বর পোল্ডারের ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। জরুরীভিত্তিতে এই ভাঙা অংশ মেরামত করার প্রয়োজন রয়েছে।

অপরদিকে আরেক দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর ৭০ নম্বর পোল্ডারের ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে মাতারবাড়ি ও ধলঘাট ইউনিয়নের কিছু অংশের বেড়িবাঁধ সাগরে তলিয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) শাহ আরমান সালমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, মহেশখালীর ধলঘাট ইউনিয়নের উমখালী বেড়িবাঁধের ৩৫০ মিটার, সরইতলা বেড়িবাঁধের ২৫০ মিটার এবং মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ষাইটপাড়া বেড়িবাঁধের প্রায় ৭০০ মিটার মতো সামুদ্রিক অস্বাভাবিক ঢেউয়ের তোড়ে সাগরে বিলিন হয়েছে।

এসও শাহ আরমান সালমান বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতি চিত্র নিরূপন করে জরুরীভিত্তিতে মেরামতের জন্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

দুই দ্বীপ উপজেলার বাইরে জেলার সমতলের অন্যান্য উপজেলা চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর ও রামুতে তেমন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া যায়নি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে চকরিয়া উপজেলার কোথাও বেড়িবাঁধ বা জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে বৃষ্টিপাতের কারণে লবণ মাঠের ক্ষতি হয়েছে।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!