ইউনিয়নেও ভোররাতে অভিযান চালাচ্ছেন ইউএনও

চকরিয়ায় প্রশাসনের সাথে ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’!

চকরিয়ায় প্রশাসনের সাথে ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’!

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মহামারি করোনার বিস্তার ঠেকাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের চেষ্টার কমতি নেই। সেহেরী খাওয়ার পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন ইউনিয়নেও। সেখানে গিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযানও পরিচালনা করছেন। এ সময় সরকারী আদেশ অমান্য করে বিভিন্ন বিপনিবিতান খোলা রেখে দিব্যি ব্যবসা পরিচালনা করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অর্থদ-ও দিচ্ছেন। কিন্তু পরক্ষণে আবারও দোকান খুলে ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে প্রশাসনের সাথে অসাধু ব্যবসায়ীদের এই অপতৎপরতা অনেকটা ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলার মতোই হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন ইউনিয়নের সচেতন লোকজন জানান, চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গার শতাধিক বিপনিবিতান বন্ধ থাকায় এখন ইউনিয়নের বাজারগুলোও জমজমাট। বিশেষ করে পোশাক, কসমেটিকসসহ ঈদের প্রয়োজনীয় দোকানগুলোতে বেশ ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। তন্মধ্যে নারীরাই বেশি ভিড় করছেন। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে ইউনিয়নের বিপনিবিতানগুলোতে। একইভাবে সমানতালে উপজেলা প্রশাসনও অভিযান জোরদার করেছে। কিন্তু অভিযানের পর ফের দোকান খুলে ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

চকরিয়ায় প্রশাসনের সাথে ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’!

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানান, গত কয়েকদিনে পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার কাকারা, চিরিঙ্গা, বরইতলী, বদরখালী, ডুলাহাজারাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্ধশতাধিক অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে তিন লাখ টাকার মতো। এরপরও সরকারী নিষেধাজ্ঞা না মেনে দোকান খুলে দিব্যি ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনওর সাথে থাকা উপজেলা টেকনিশিয়ান এরশাদুল হক জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয় পুরো কক্সবাজারে বিপনিবিতান বন্ধ রাখার সরকারী নির্দেশনা দেয়ার পর থেকে কয়েকদিন ধরে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ মহোদয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। এ সময় অন্তত অর্ধশত অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নগদ জরিমানা আদায় করা হয় প্রায় তিন লাখ টাকা। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখাসহ অপ্রয়োজনীয় জমায়েত করায় বিভিন্নস্থানেও অভিযান চালানো হয়। যাতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিদিন একাধিক ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যে সব ইউনিয়নে ভোররাতে দোকান খুলে ব্যবসা করার খবর পাচ্ছি, সেখানেই ছুটে যাচ্ছি। চেষ্টা করছি করোনার বিস্তার রোধে নানা পদক্ষেপ নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য। এজন্য সর্বসাধারণকে আরো সচেতন হতে হবে, মন্তব্য করেন তিনি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!