করোনা ঠেকাতে চকরিয়া মহাসড়কে আরেকটি তল্লাশি চৌকি বসাল পুলিশ

করোনা ঠেকাতে চকরিয়া মহাসড়কে আরেকটি তল্লাশি চৌকি বসাল পুলিশ

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় দিন দিন বাড়ছেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। একই সাথে আইসোলেশনে থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মাঝে আতঙ্কও ভর করছে। এই পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নির্দেশে এবার কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বসানো হয়েছে যানবাহন তল্লাশি চৌকি। এতে যাত্রীবাহী যানবাহন শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়াও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

তবে এই কঠোরতার আওতার বাইরে থাকবে জরুরী পণ্য ও সংবাদপত্র পরিবহণে নিয়োজিত বাহন এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

উল্লেখ্য, পুলিশ সুপারের নির্দেশে করোনা ক্রাইসিসের শুরুতে একই ধরণের তল্লাশি চৌকি বসানো হয় মহাসড়কের সীমান্তবর্তী আজিজনগরে।

পুলিশ জানায়, স্থাপিত ওই তল্লাশি চৌকিতে বসে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবদি থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের একটি ইউনিট সবধরণের যানবাহন চলাচল গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করবে। সরকারি নির্দেশনার বাইরে দিনে বা রাতে অন্য কোন পরিবহণ চলাচল করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

তবে জরুরী কাঁচামাল অর্থাৎ সবজিবাহী যানবাহন চলাচলে নতুন সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। নতুন সূচী অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত বিনা বাধায় ওই তল্লাশি চৌকি অতিক্রম করতে পারবে এসব যানবাহন। পাশাপাশি দিবা-রাত্রি চলাচল করতে পারবে জরুরী খাদ্য পরিবহণে নিয়োজিত যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি ও জরুরী ওষুধ সরবরাহে নিয়োজিত পরিবহণ। এর বাইরে অন্যসব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

মহাসড়কের এই তল্লাশি চৌকি পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী, মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী।

এ ব্যাপারে জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরাও উদ্বিগ্ন। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে জনগণকে লকডাউনে রাখার চেষ্টা করা হলেও তারা পুরোপুরি মানেননি। এতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন মহোদয়ের নির্দেশনায় মহাসড়কের মালুমঘাটে আরও একটি তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। যার কার্যক্রম বুধবার রাত থেকে শুরু হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনার বাইরে যে কোন সময় অন্য কোন যানবাহন চলাচল করলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা এই নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!