করোনা প্রতিরোধে মাঠে গর্জনিয়া পুলিশ, সাধুবাদ এলাকাবাসির

চকরিয়ায় নিজের ঘরেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেলেন বিদ্যুৎ শ্রমিক

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু, নাইক্ষ্যংছড়ি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ক্রমান্বয়ে মহামারীর দিকে চলে গেছে। তাই প্রাণঘাতী এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে শুরু থেকে। তবে গ্রাম পর্যায়ে এই লকডাউনকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার সাধারণ মানুষ। এরই মাঝে সরকারের জারি করা লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গত ১৭ মে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন পুরো জেলার কোনো বাজার কিংবা ষ্টেশনে কাঁচা মালামাল, ওষুধ ও মুদির দোকান ছাড়া সব ধরণের দোকান এবং সড়কে যানবাহন চলাচল পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে এক নির্দেশনা জারি করেন।

জেলা প্রশাসকের এই নির্দেশনা অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে গর্জনিয়া ফাঁড়ি পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) রামুর গর্জনিয়া বাজারে জেলা প্রশাসকের েই নির্দেশনা পালন করতে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আনিছুর রহমান নিজেই ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদি দোকান ছাড়া সব ধরণের দোকান বন্ধে সচেতনতামূলক মাইকিং করেন।

এরপরও মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে গর্জনিয়া বাজারে সব দোকানপাট খুলে বসেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সড়কেও চলাচল শুরু করে সিএনজি, অটোরিকশা, টমটম, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট বড় যানবাহন।

মাইকিং করার পরও এই অবস্থা দেখে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে ফাঁড়ির সকল কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী টহল জোরদার করেন।

এসময় পুলিশ সরকারের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশের ভয়ে ফাঁকা হয়ে যায় পুরো বাজার।

চকরিয়ায় নিজের ঘরেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেলেন বিদ্যুৎ শ্রমিক

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবু মোঃ ইসমাঈল নোমান বলেন, মাইকিং করার পরও মানুষ সচেতন হচ্ছেন না। করোনা প্রতিরোধে জনগণকে রক্ষায় পুলিশ পরিদর্শক আনিছুর রহমান দিনরাত এভাবে আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

কচ্ছপিয়া যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক এম সেলিম বলেন, মানুষ এখন পুলিশকে ভয় পাচ্ছে, করোনাকে নয়। মহামারী এই রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদেরই বেশি সচেতন হওয়া দরকার।

পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের আদেশ বাস্তবায়ন করায় তিনি সকল পুলিশ সদস্যদের সাধুবাদ জানান।

পুলিশ পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, মানুষকে এত বুঝানোর পরও কেন সচেতন হচ্ছেন না।

তিনি বলেন, এত কিছু করার পরও যদি আইন অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া উপায় থাকবে না।

তিনি সবাইকে বিনাকারণে বের না হয়ে ঘরে থাকার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) তিনি সারাদিন রোজা নিয়ে মাঠে থেকে জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেন। এ কারণে সকাল ১১টার পর থেকে গর্জনিয়া বাজার ফাঁকা হয়ে যায়।

বাজারের এমন দৃশ্য দেখে পুলিশকে সাধুবাদ জানান সচেতন মানুষ। স্থানীয় সচেতন মানুষের মতে, মহান আল্লাহর রহমতে পুলিশের কৌশলী ভুমিকার কারণে আজ গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার মানুষ এখনও করোনা মুক্ত।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!