খুরুস্কুলের কায়সার হত্যার ‘মূল হোতা’ শাখাওয়াত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত, বাবার দাবি ভিন্ন!

খুরুস্কুলের কায়সার হত্যার ‘মূল হোতা’ শাখাওয়াত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত, বাবার দাবি ভিন্ন!

আনছার হোসেন, সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরতলির খুরুস্কুলে গলাকেটে যুবক কায়সার হত্যাকান্ডের ‘আসামি’ শাখাওয়াত হোসেন (২৪) পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর রাতে খুরুস্কুলের উত্তর রাস্তার পাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।
 
নিহত শাখাওয়াত হোসেন কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের তোতকখালী তেইল্যাকাটা গ্রামের শফিউল আলমের ছেলে।
 
পুলিশ দাবি করছে, নিহত শাখাওয়াত হোসেন গত ১১ মে রাতে পিএমখালী থেকে আসার পথে গলাকেটে হত্যার শিকার হওয়া মোঃ কায়সার হত্যাকান্ডের মূল আসামি। তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তার সহযোগীদের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।
 
তবে তার বাবা শফিউল আলম দাবি করেন, গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আনসারুল হক তার ছেলেকে অন্য আসামিদের সাথে ধরে নিয়ে আসেন। কিন্তু অন্য আসামিদের কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও তার ছেলে শাখাওয়াত হোসেনকে পাঠানো হয়নি। মঙ্গলবার (১৯ মে) অজ্ঞাত ফোন পেয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তার ছেলের লাশ দেখতে পেয়েছেন।
 
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খাইরুজ্জামান জানান,  নিহত শাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করতে মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোররাতে খুরুস্কুল ইউনিয়নের উত্তর রাস্তার পাড়া চিংড়ি ঘেরের পাশে গেলে সেখানে আগে থেকেই ওৎপেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি ছুঁড়লে শাখাওয়াত হোসেন ও দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ আহত শাখাওয়াত হোসেনের পাশে একটি দেশে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (এলজি) এবং কয়েক রাউন্ড গুলি পায়।
 
তিনি জানান, পুলিশ গুরুতর আহত শাখাওয়াত হোসেনকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ সদস্যদ্বয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
 
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের দাবি, নিহত যুবক শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ২৮/২০১৯ নাম্বার হত্যা মামলাসহ আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে খুরুস্কুলের মোঃ কায়সার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা শাখাওয়াত হোসেনকে ওই হত্যা মামলার ‘প্রধান হোতা’ দাবি করে আদালতে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
 
অপরদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে অবস্থান করা নিহত শাখাওয়াত হোসেনের বাবা শফিউল আলম ও প্রতিবেশি আলী আকবর বাবুল কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, গত শুক্রবার রাতে অন্য আসামিদের সাথে শাখাওয়াত হোসেনকেও থানায় নিয়ে আসেন। পরে অন্যদের সাথে তাকেও আদালতে পাঠানো হবে জানানো হয়। পরে তাকে ধরাই হয়নি বলে পুলিশ অস্বীকার করে।
 
বাবা শফিউল আলম দাবি করেন, শাখাওয়াত হোসেন ওই মামলার আসামিও নয়।
 
তিনি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে একটি অজ্ঞাত ফোন থেকে খবর আসে তার ছেলের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
 
পরে নিহত যুবকের বাবা শফিউল আলম প্রতিবেশি আলী আকবর বাবুল ও ফুফাতো ভাই আবছারকে সাথে নিয়ে মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান।
 
এ ব্যাপারে ফোনে জানতে চাইলে মো. কায়সার হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনছারুল হক থানার ওসির বক্তব্য নিতে বলেন।
 
এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবিরকে একাধিক কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 
থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খাইরুজ্জামান জানান, ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে আত্মীয় স্বজনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
 
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে সকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ খুরুস্কুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল গোলক সওদাগরের ঘোনা এলাকার আবদুস সালামের ধাতক্ষেত থেকে আবু তৈয়বের ছেলে মো. কায়সারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছিল।
 
ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। ওই সময় দুইটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড তাজা কার্তূজ, রাম দা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়।
 
ধৃত চারজন হলেন পিএমখালী ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের তোতকখালী এলাকার সিকদার পাড়ার পইল্লাকাটা এলাকার আলী আকবরের ছেলে মোঃ ফারুক (২২), একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে মুজিবুল করিম (২২) ও লাল মোহাম্মদের ছেলে শাহজাহান (২৭) ও একই ইউনিয়নের ছনখোলা মধ্যম মাদলিয়া পাড়ার বার্মাইয়া আবদুস সালামের ছেলে আবদুল করিম (২৫)।
 
তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাও উদ্ধার করা হয়।
 
ধৃত চারজনের মধ্যে দুইজন স্বেচ্ছায় আদালতে অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দাবি, হত্যাকান্ডের শিকার কায়সারের চাচাতো মামা মোহাম্মদ বেদারুলের পরিকল্পনায় ওই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।
 
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছিল।
error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!