বাবা-মায়ের পাশেই চিরঘুমে এড. জহিরুল ইসলাম

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট জহিরুল ইসলামকে জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে। তাঁর বাবা-মা এবং ছোট ভাইয়ের কবরের পাশেই শায়িত করা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা আড়াইটার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয় বীর এই মুক্তিযোদ্ধাকে। মৃতদেহের খাটিয়ায় দেশের জাতীয় পতাকা দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর নামাজে জানাযা শেষে কক্সবাজার শহরের বইল্যাপাড়া কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় ভাবে সম্মান জানানো হয়। এতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে জেলার বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের জানাযায় মানুষের উপস্থিতি তেমন বাড়তে দেয়নি প্রশাসন। পরিবারের পক্ষ থেকেও ছোট পরিসরে জানাযার প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের জানাযার মাঠে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, আপনজন ও গুটিকয়েক শীর্ষ নেতাকর্মী ছাড়া বাইরের কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে।

জানাযার আগে সংক্ষিপ্ত ভাবে মরহুমের স্মৃতিচারণ করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল ফোরকান আহমেদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক সিরাজুল ইসলাম, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি আ জ ম মঈন উদ্দিন এবং এডভোকেট জহিরুল ইসলামের দুই ছেলে জাহেদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, জহিরুল ইসলাম কক্সবাজারের রাজনীতি ছাড়াও জাতীয় পর্যায়েও রাজনীতি করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় এমপি ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সাদা অন্তরের মানুষ ছিলেন তিনি। জীবনে কোন মানুষকে খারাপ আখ্যা দেননি তিনি। সবসময় ইতিবাচক মনোভাবের মানুষ ছিলেন।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার ছাড়া জাতীয় রাজনীতি করলেও জীবনের কোনস্থানে সম্পদ তৈরি করেননি। বায়তুশ শরফ মসজিদ সংলগ্ন এই বাড়ি ছাড়া আর কিছুই অর্জন করেননি। সবসময় মনে করতেন কক্সবাজারবাসীই তাঁর সম্পদ। তার মৃত্যুতে কক্সবাজারের যে শুন্যতা দেখা দিয়েছে তা কখনো পূরণ হবে না।

পারিবারিক সুত্র মতে, সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম শহরে নিজের বড় ছেলে জাহেদুল ইসলামের বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম।

সোমবার রাতেই তার মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার শহরের বৈল্যা পাড়া এলাকার নিজের বাড়িতে পৌঁছে। ওই সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আশপাশের মানুষ ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে শেষবারের মতো একনজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমান।

এদিকে এডভোকেট জহিরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান তারা।

তারা বলেন, এমন নেতার মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী রাজনৈতিক অঙ্গনে যোগ্য অভিভাবক ও আাদর্শবান রাজনীতিবিদকে হারাল, এ শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর।

এছাড়াও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য, কক্সবাজার জেলার গর্ভনর, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!