চকরিয়ায় ২৫ ঘরে আগুন ও লুটের মামলায় ৭ জন ধরা, খোলা আকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্থরা

চকরিয়ায় ২৫ ঘরে আগুন ও লুটের মামলায় ৭ জন ধরা, খোলা আকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্থরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় নদীর পার্শ্ববর্তী জেগে উঠা প্রায় চার একর (১০ কানি) খাস জমি দখলে নিতে রাতের আঁধারে একটি গ্রামের ২৫টি বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখপূর্বক চকরিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ এজাহারনামীয় ৭ অভিযুক্তকে আটক করেছে।

উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা ও অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া বাড়ির মালিক জমির উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১৫ মে এই মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে ২৫টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয়া ও বাড়িঘর লুটপাটের ঘটনার পর পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত সরকারি ভাবে সামান্য চাল ও কয়েক বান্ডিল টিন ছাড়া আর কোন কিছুই কপালে জুটেনি এসকল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর। ফলে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবারের কয়েকশত নারী-পুরুষ ও শিশু বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন মো. হানিফ নামের ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি বলেন, গত ১৪ মে’র ঘটনায় জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে ডাঙ্গারচর এলাকার ২৫টি পরিবারের। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি চাল ও দুই বান ডেউটিন বরাদ্দ দেয়া হলেও অনেকেই তা পায়নি। আবার এসব সহায়তা বাড়ি নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত না হওয়ায় নগদ টাকার অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন বাড়ি নির্মাণ করতে না পেরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন জড়ো হয়ে দূর্বৃত্তদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন বলেন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর দূর্বৃত্তরা সবকিছু লুট করে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এসব পরিবারের লোকজন খেয়ে না খেয়ে রমজানের দিন অতিবাহিত করছেন। আবার অনেকের ঘরে চাল না থাকায় তারা রোজার সেহেরী পর্যন্ত খেতে পারছেন না। যারা কষ্ট করে রোজা রাখছেন তারাও সন্ধ্যায় ইফতারীর সময় পানি পান করে ইফতার সারছেন।

দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে সর্বস্ব খোয়ানো বাড়ির মালিক কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, গত ১৪ মে ভোর রাতে সেহেরীর পরপরই দূর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ২৫টি বসতঘর পুড়ে যাওয়া এবং আগুনে পুড়ে এক নারী নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে ঘটনার মূল আসামিদের বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে এসকল দূর্বৃত্তদের হুমকির মুখে এখনো নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন ২৫টি পরিবারের লোকজন।

আগুনে সর্বস্ব খোয়ানো বাড়ির মালিক জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ৭ মে দূর্বৃত্তরা ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে নদীর পার্শ্ববর্তী জেগে উ্ঠা চর দখলের চেষ্ঠা চলায়। ওই সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ওসমানের বাবা নুরুল হোসাইন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই এক সপ্তাহের মধ্যে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটানো হয়।

উল্লেখ্য, চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকায় প্রবাহমান একটি খালের জেগে উঠা চর (খাস জমি) দখলে নিতে গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) ভোররাত চারটা থেকে ব্যাপক তান্ডব চালায় দূর্বৃত্তরা। অভিযোগ উঠে পার্শ্ববর্তী বরইতলী ইউনিয়নের ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা দিদার মেম্বারের নেতৃত্বে শতাধিক দূর্বৃত্ত অন্তত ৫০টি বিভিন্ন ধরণের অবৈধ অস্ত্র নিয়ে কয়েকশত ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে প্রথমে ওই গ্রামে প্রবেশ করার পর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরে চার ঘন্টা ধরে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে দেড় হাজার মণ ধান, কয়েক’শ মণ মরিচ, আলু ও শিমের বিচি, ৫০ মণ চাল, ৩৫/৪০টির মতো গবাদিপশু, তিনটি মোটরসাইকেল, ২৪টি টিউবওয়েল, ফ্রিজ, টেলিভিশন এবং বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ অন্তত কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

লুটপাটের পর ২৫টি বাড়িতে একের পর এক আগুন ধরিয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনার একদিন পর ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিক জমির উদ্দিন বাদী হয়ে ৪৪ জনের নাম উল্লেখপূর্বক চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ৭ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!