চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্ধ

মুখ খুললেন রাজাখালীর চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর

চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্ধ, মুখ খুললেন রাজাখালীর চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর

রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর ও ২নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজুর মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে ওই ইউনিয়নে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল। তারই সুত্র ধরে সম্প্রতি রাজাখালীতে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়াও হয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ কয়েকদফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশ রাজাখালী ইউনিয়নে বামলারপাড়া, সবুজ বাজারে টহল জোরদার করে। শান্তিশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ সবুজ বাজারে অবস্থান সুসংহত করে।

এদিকে সৃষ্ট ঘটনার দু’দিন পর উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর। চলমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ছৈয়দ নুর বলেন, রাজাখালীকে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বক্তব্য, সংবাদ প্রচার, লেখালেখি হচ্ছে। বিশেষ করে আমাকে জড়িয়ে এসব লেখা।

তিনি বলেন, ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজুকে অপহরণ ও মারধর করা হয়েছে, ওইসবে আমাকে জড়িয়েছে একটি চক্র। সেদিন নেজু মেম্বারকে অপহরণ ও মারধরের কথাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও অবান্তর।

তার মতে, বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। নেজু মেম্বার, আজু মেম্বারসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য পরিষদে গিয়েছিলেন বকেয়া বেতনের জন্য। বেসরকারি অংশ পরিষদ তহবিল থেকে নিতে তারা পরিষদে হাজির হন। বেতন নিয়ে পরিষদ সচিব সালাহ উদ্দিন ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। সচিব সম্মত হন এক বছরের বকেয়া বেতন পরিষদ থেকে ছাড় দেবেন। তারা বকেয়া সব বেতন এক সাথে ছাড় চেয়েছিলেন। কিন্তু নীতিমালায় অসমর্থিত থাকায় পরিষদ সচিব রাজি হননি।

চেয়ারম্যান দাবি করেন, ওই ঘটনার সুত্র ধরে নেজু মেম্বার, আজু মেম্বার সচিবকে গালিগালাজসহ মারধর করার চেষ্টা করে। এ পরিস্থিতিতে সচিব আমাকে ফোনে বিষয়টি জানান। আমি সচিবকে লাঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা ও দু’পক্ষের উত্তেজনা থামাতে দ্রুত বাড়ি থেকে পরিষদে আসি। নেজু মেম্বারসহ উত্তেজিত মেম্বারদের পরিষদ কার্যালয় থেকে সরিয়ে দিয়েছি। সচিবকে নিরাপত্তা দিয়েছি।

তার মতে, সেখানে উপস্থিত কিছু মানুষ নেজু মেম্বারের আচরণে ক্ষুদ্ধ হন। তাকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে অল্প দূরে নামিয়ে দিয়ে আমি বাড়িতে চলে যাই। পরবর্তীতে দেখেছি এ ঘটনাকে রং ছিটিয়ে কল্পকাহিনী রটিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, রাজাখালীতে সব অপশক্তি এক হয়েছে। তারা রাজাখালীর উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক মর্যাদাকে ম্লান করতে চান। আমি ছৈয়দ নুর চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে সব অপতৎপরতা রাজাখালীতে নিরুৎসাহিত হয়েছে। অবসান হয়েছে জুলুম, অত্যাচার ও নিপীড়ন। চোর, ডাকাত ও সন্ত্রাসিরা এক জায়গায় তারা এক। শুধু আমাকে ঘায়েল করতে এরা এক হয়েছে। অস্ত্র কারবারি, ইয়াবা কারবারি, মানবপাচারকারিরা এক সিন্ডিকেটে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এরা চায় ছৈয়দ নুরের প্রতিবাদ থেমে যাক।

তিনি বলেন, রাজাখালীতে লবণ মাঠের পলিথিন কেটে ফেলা হয়েছে। অস্ত্র দিয়ে নিরীহ মানুষকে জেলে দিচ্ছে। এরা কারা? একটু নজর ও তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। আমাকে এসব ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি কোন অপশক্তির ভয় ও হুমকিতে ভিত নই। মোটেও দুর্বল নই আমি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!