রাজাখালীতে ত্রাণ নিয়ে ‘রণক্ষেত্র’, চেয়ারম্যানের সাথে মেম্বারদের তুমুল মারামারি!

রাজাখালীতে ত্রাণ নিয়ে ‘রণক্ষেত্র’, চেয়ারম্যানের সাথে মেম্বারদের তুমুল মারামারি!

মোঃ ছফওয়ানুল করিম, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় ত্রাণ বিতরণ ও মেম্বারদের ভাতা নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে মেম্বারদের তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ইউপি সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) বেলা ২টার দিকে রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন ওরফে নেজু মেম্বার ও ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজম উদ্দিন আজু।

এদিকে আহত ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূর ১০/১২ জন অস্ত্রধারি সন্ত্রাসি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এসে তাকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে শারিরিক নির্যাতন চালিয়েছেন এবং পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে ছেড়ে দেন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে রাজাখালীর ৮ জন ইউপি সদস্য ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হন এবং তাদের সাথে পরিষদের অফিসে প্রথমে ইউপি সচিব নবিউল ইসলামের সাথে উচ্চবাচ্য হয়। পরে সচিব মোটর সাইকেল নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ির দিকে যান। এর কিছুক্ষণ পরই চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূর একটি সিএনজি নিয়ে ৪ জন লোকসহ লুঙ্গি পরে খালি গায়েই ইউনিয়ন পরিষদে আসেন এবং সচিবকে মারতে চাওয়া নিয়ে মেম্বারদের সাথে উত্তেজিত হন। এ সময় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু চেয়ারম্যানের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে মেম্বার ও চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজনের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিনকে সিএনজিতে তুলে তার বাড়ির দিকে নিয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু বলেন, আমাদের ভাতা বন্ধ ২৭ মাস ধরে। আজকে সব ইউপি সদস্যকে ভাতা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান সচিব নবিউল ইসলাম। আমরা যখন ইউপি কার্যালয়ে অবস্থান করি তখন চেয়ারম্যান ছিলেন না। সচিব আমাদের সাথে আলাপ করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি চেয়ারম্যানকে কি বলেছে আমরা জানি না। চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে তার সন্ত্রাসি বাহিনী নিয়ে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। ক্ষিপ্ত চেয়ারম্যান এসেই মেম্বার আজুকে মারধর শুরু করলে তিনি পালিয়ে যান। এসময় অস্ত্রের মুখে আমাকে জিম্মি করে তাদের গাড়িতে তুলে মারধর করতে করতে বদিউদ্দিন পাড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে সারাশরীরে হাতুড়িপেটা করে তার লোকজন। পরে পুলিশ আসার খবর পেয়ে সচিবের গাড়িতে আমাকে ওঠিয়ে দেয়।

পেকুয়ায় নেজু মেম্বারকে অপহরণ করলেন চেয়ারম্যান, পরে ‘ডেরা’ থেকে উদ্ধার

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূর বলেন, ‘আজ (১৬ মে) রাজাখালী ইউনিয়নে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের দেয়া ১২৬ পরিবারের জন্য কিছু শুকনা খাবার বিতরণের কথা ছিল। আর তাই সচিব নবিউল সকল মেম্বারকে খবর দিয়ে পরিষদে আনেন। কিন্তু ইয়াবা আসক্ত ২ মেম্বার পরিষদে উপস্থিত হয়েই তাদের ভাতার বিষয় নিয়ে সচিবকে মারধর করার চেষ্ঠা করে এবং পরিষদে ভাংচুর চালায়। এ ঘটনার এক পর্যায়ে সচিব পালিয়ে আমার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এসময় পরিষদে উপস্থিত হয়ে সচিবকে মারতে চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মেম্বার নেজু উত্তেজিত হয়ে আমার গায়ে হাত তোলার চেষ্ঠা করে। এতে আমার সাথে থাকা লোকজন তাকে ক্ষান্ত করার জন্য একটি সিএনজিতে উঠিয়ে নেয় এবং কিছুদূর গিয়ে আবার ছেড়ে দেয়।’

তিনি দাবি করেন, ‘এতে অপহরণ বা নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি। যে ২ জন ইউপি সদস্য আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তারা দু’জনের বিরুদ্ধেই ত্রাণ দেয়ার নামে জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।’

ইউনয়ন পরিষদের সাথেই রাজাখালী পুলিশ ফাঁড়ির অবস্থান। এ ফাঁড়ির ইনচার্জ সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে হট্টগোল শুনে বের হয়ে দেখলাম উদোম গায়ে চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূর পরিষদের বাইরে তার লোকজন নিয়ে অবস্থান করছেন এবং নেজু মেম্বারসহ কয়েকজন মেম্বারের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে উভয়পক্ষে তুমুল মারামারি শুরু হয়। এময় আমরা দ্রুত বের হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি।’

এ প্রসঙ্গে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিষদ রোডের কিছুদূর গিয়েই কিছুটা আহত অবস্থায় রাজাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজুকে পাই। এসময় তাকে চিকিৎসার জন্য পেকুয়া হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি ত্রাণ বিতরণ ও মেম্বারদের ভাতা নিয়েই চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মধ্যে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ বিষয়ে আহত মেম্বারের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!