পেকুয়ায় দিনদুপুরে পুড়ে ছাই ৬ বাড়ি, নিঃস্ব ৫ সহোদর

পেকুয়ায় দিনদুপুরে পুড়ে ছাই ৬ বাড়ি

মোঃ ছফওয়ানুল করিম, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় দিনদুপুরে ৬টি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকাল ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জালিয়াকাটা এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার জাহেদা বেগমের বাড়ি থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং এরপরই দ্রুত আশপাশের বাড়িগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

তারা জানান, যে ৬টি বাড়ি পুড়ে গেছে তার মধ্যে ৫ আপন ভাইয়ের বাড়ি রয়েছে। পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলো মাটির দেয়াল, ছনের ছাউনি এবং পাশাপাশি হওয়ায় দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জাহেদা বেগম বলেন, ‘এই বাড়িটা ছাড়া আমাদের কোন ধন সম্পদ নাই। আজ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।’

কথা বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন তিনি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আমজাদ জানান, তিনি গরুর ব্যবসা করেন। তার বাড়িতে তার ব্যবসার জমানো প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ব্যবসার শেষ সম্বল পুড়ে যাওয়ায় গরু ব্যবসায়ী আমজাদ পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন।

পেকুয়ায় দিনদুপুরে পুড়ে ছাই ৬ বাড়ি

বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের এমইউপি মো. আনিছুল করিম জানান, বিকেল ৪টার দিকে পশ্চিম জালিয়াকাটা এলাকার মৃত আহম্মদ শরিফের ছেলে ইসমাইল, তার ভাই জামাল উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, মহিউদ্দিনের ছেলে নাছিম ও মৃত বাদশার স্ত্রী জাহেদা বেগম ও আমজাদের বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বৈদ্যুতিক শটসার্কিটের আগুনের কারণে স্থানীয়রা প্রথমদিকে ভীতসন্ত্রস্ত ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ দিদারুল হক বলেন, ‘বারবাকিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জালিয়াকাটা এলাকায় যেখানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে সেখানে যাওয়ার রাস্তা এতই সরু এবং ভগ্নদশা যে, আমাদের ছোট গাড়ি নিয়ে যেতেই অনেক বেগ পেতে হয়েছে এবং সময়ক্ষেপন হয়েছে। এরপরও আমরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনি।’

তিনি বলেন, ‘অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জনই আপন সহোদর। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’

অগ্নিকান্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাত। ঘটনাস্থল থেকে তিনি জানান, পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষনিক চাল, ডাল, তেল, লুঙ্গি, কম্বলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ২ বান্ডিল করে টিন দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!