উখিয়ায় ২০০ বেডের ‘পরিপূর্ণ’ করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন ২১ মে

উখিয়ায় ২০০ বেডের ‘পরিপূর্ণ’ করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন হচ্ছে ২১ মে

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

উখিয়াতে ২০০ বেডের করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল (কোভিড হাসপাতাল) আগামী ২১ মে বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে জেলার প্রথম পরিপূর্ণ এই কোভিড হাসপাতালটি উদ্বোধন করবেন।

সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে কোভিড হাসপাতালের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজার অফিস প্রধান, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান, আরআরআরসি অফিসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, উখিয়ার ইউএনও মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত থাকবেন।

বিষয়টি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ শাজাহান আলি।

গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আইসোলেশন হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৯৯% ভাগ শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) অর্থায়নে এই বৃহৎ আকারের আধুনিক করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। মূলতঃ দেড়শো বেডের এই হাসপাতালে ২০০ বেডের চিকিৎসা সেবা দেয়ার ফ্যাসিলিটি থাকবে।

উখিয়ায় ২০০ বেডের ‘পরিপূর্ণ’ করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন ২১ মে

হাসপাতাল নির্মাণ কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত একটি সুত্র জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মে ১৫০ জনের মেডিকেল টিম কক্সবাজার এসে পৌঁছাবে। তাদের হাসপাতালটি ১৯ মে বুঝিয়ে দেয়া হবে। তারা পরবর্তী ২ দিন হাসপাতালে ট্রায়াল ব্যবস্থাপনার কাজ করবেন। প্রতিদিন ৩ শিফটে ৫০ জন করে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ, ক্লিনার, আয়াসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড হাসপাতালটিতে ডিউটি করবেন। ১৫০ জনের মেডিকেল টিম ও সংশ্লিষ্ট আরো ১৫ জনসহ মোট ১৬৫ জনের থাকার জন্য আবাসিক ব্যবস্থা হিসাবে উখিয়ার ইনানীতে একটি বড় হোটেল ভাড়া করা হয়েছে। আবার তাদের ব্রেকফাস্টসহ ৩ বেলা উন্নতমানের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসম্মত খাওয়া, ২ বেলা নাস্তা সরবরাহের জন্য অপর একটি রেস্টুরেন্টের সাথে চুক্তি করা হয়েছে।

উখিয়ার কোভিড হাসপাতালটিতে সবসময় ৩টি এম্বুলেন্স স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ২টি এম্বুলেন্স আভ্যন্তরীণ রোগী আনা নেয়া করবে। অপর এম্বুলেন্সটি চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দূরে কোথাও রোগী রেফার করা হলে সেখানে রোগী নিয়ে যাবে।

সুত্রটি জানিয়েছেন, এই কোভিড হাসপাতালটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় নাগরিকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ১১টি পৃথক পয়েন্টে নির্মিত হচ্ছে ১৯০০ বেডের কোভিড আইসোলেশন হাসপাতাল। তার মধ্যে ৮০০ বেডের হাসপাতাল নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট আইসোলেশন হাসপাতাল গুলোর নির্মাণ কাজও আগামি ৫ জুনের মধ্যে শেষ হবে। তাই উখিয়ায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কোভিড হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার কোনা দরকার নেই।

সুত্র মতে, উদ্বোধনের পরের দিন ২২ মে শুক্রবার থেকে উখিয়ার কোভিড হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হবে। তবে কোন পুরাতন রোগী নয়। যে সকল রোগীর স্যাম্পল টেস্টের রিপোর্ট ২২ মে ‘পজিটিভ’ আসবে শুধু সে সকল রোগীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সেখানে ভর্তি করা হবে। এই কোভিড হাসপাতালটি ২২ মে চালু করার পর কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়ার ২টি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের উপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

উখিয়ায় ২০০ বেডের ‘পরিপূর্ণ’ করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন ২১ মে

সুত্র জানিয়েছেন, আগামি ২/৩ দিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়া স্থানীয় নাগরিকদের এই কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া ও সার্বিক রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসন, আরআরআরসি অফিস, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রত্যাশী প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআরের সাথে সমন্বয় বৈঠক হবে।

উখিয়া কলেজের একটু দক্ষিণে প্রায় ৩ একর জমির উপর কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের সামান্য ভেতরে এই কোভিড হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল।

অত্যাধুনিক সুবিধাসম্বলিত হাসপাতালটির সকল চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, স্বাস্থ্য কর্মী, এ্যাম্বুলেন্স, খাদ্যসহ মাসিক সকল ব্যয়ভার ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষ বহন করবে। এ হাসপাতালে আপাতত শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় ইউএনএইচসিআর এই করোনা সংক্রমণকালিন সময়ে কোভিড হাসপাতালটি নির্মাণ করছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ শাজাহান আলি।

এই কোভিড হাসপাতালটি কক্সবাজারের প্রথম পরিপূর্ণ একটি করোনা আইসোলেন COVID-19 হাসপাতাল।

এদিকে উখিয়াতে জরুরি প্রয়োজনে ইউএনএইসসিআরের অর্থায়নে নির্মিত এই ২০০ বেডের কোভিড হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা আছে কিনা, এ বিষয়ে হাসপাতালটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম। প্রাথমিকভাবে কিছু বেডে ভেন্টিলেটর চিকিৎসা ব্যবস্থা করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। হাসপাতাল চালুর পর ভেন্টিলেটর আমদানি করে সেখানে স্থাপন কর হবে। পরে পর্যায়ক্রমে আর কিছু বেডে ভেন্টিলেটর স্থাপন করার পরিকল্পনা মাথায় রেখে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজের ড্রয়িং, ডিজাইন ও প্ল্যান করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যে সকল করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হবে, সে সকল রোগীকে ভেন্টিলেটর থাকা বেডে রেখেই চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। আর যে সকল রোগীদের ভেন্টিলেটরের সহায়তা প্রয়োজন হবে না, সে সকল রোগীদের নরমাল বেডে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে।

উখিয়ায় ২০০ বেডের ‘পরিপূর্ণ’ করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন ২১ মে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, এখানে সঙ্গত কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিদেশী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত আনাগোনা বেশি থাকবে, তাই নির্মিত এই ২০০ শয্যার আইসোলেশন হাসপাতালটি বিশ্বমানের পরিপূর্ণ একটি কোভিড হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা রয়েছে। আর স্থানীয় জনসাধারণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থী উভয় জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে হাসপাতালটির স্থান রোহিঙ্গা শরণার্থী এরিয়া থেকে আরো উত্তরে এগিয়ে এনে মধ্যবর্তী স্থানে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউএনএইসসিআরের অর্থায়নে নির্মিত এই ২০০ বেডের করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ এনজিও ব্রাক পরিচালনা করছে। ব্র্যাকের এ ধরণের হাসপাতাল নির্মাণে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় এবং এবিষয়ে তাদের টেকনিক্যাল পারসন থাকায় তাদের দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের তত্বাবধানে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ করা হয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছেন।

ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে বর্তমানে রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল কোভিড হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!