‘রোহিঙ্গা সাজা’ সেই করোনা রোগী আইসোলেশনে, ২০ বাড়ি ও ২ দোকান লকডাউন

‘রোহিঙ্গা সাজা’ সেই করোনা রোগী আইসোলেশনে, ২০ বাড়ি ও ২ দোকান লকডাউন

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু, নাইক্ষ্যংছড়ি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বান্দরবানের নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলার ৬ষ্ট করোনা শনাক্ত ঘুমধুমের আংকি মোহন বড়ুয়াকে (৬০) শুক্রবার (১৫ মে) নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালের আসোলেশন ইউনিটে আনা হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গা সেজে করোনা টেষ্টের জন্য নমুনা পাঠান কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে। ওই দিন তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ায় নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে নিয়ে আসে।

পরে তার গ্রামের বাড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকার আশপাশের ২০টি বাড়ি ও ২টি দোকান লকডাউন করে প্রশাসন।

করোনা আক্রান্ত মৃত ললিত বড়ূয়ার ছেলে আংকি মোহন বড়ূয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন‌্য উপজেলা স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন বিভাগে নিয়ে আসেন উপজেলার স্বাস্থ্য টিমের সদস্যরা।

নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. এ জেড এম ছলিম কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, করোনা পজিটিভ আংকি মোহন বড়ুয়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৬ষ্ট করোনা শনাক্ত রোগী। তাকেও সরকারের গাইডলাইন অনুযায়ী হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম‌্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ আক্রান্ত ব‌্যক্তির বাড়ি ও এলাকা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লকডাউন করার কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও লকডাউন করা ২০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি ওই এলাকার সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছেন। তিনি করোনা পজিটিভ আসা আংকি মোহন বড়ূয়ার সংস্পর্শে আসা ব‌্যক্তিদের পরিবারের সদস‌্যদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন। তাদের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ২০টি বাড়ি ও ২টি দোকান লকডাউন ঘোষণা বলবৎ থাকবে।

উল্লেখ্য, আংকি মোহন বড়ুয়া গত বুধবার তার শরীরে অসুস্থতা অনুভব করলে রোহিঙ্গা সেজে উখিয়ার কুতুপালং আন্তর্জাতিক সংস্থা এমএসএফ পরিচালিত স্বাস্থ‌্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কোভিড-১৯ উপসর্গ কথা জানতে পারেন। পরে তার নমুনা পরীক্ষার জন‌্য পাঠানো হয় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল‌্যাবে। সেই ল‌্যাব থেকে নমুনা টেষ্ট ফলাফল পজিটিভ আসলে তার দেয়া ঠিকানা খুঁজতে শুরু করে স্বাস্থ‌্য কর্মীরা। রোহিঙ্গা ক‌্যাম্প রেজিষ্ট্রারে ওই নামে কেউ না থাকায় বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় প্রশাসন ও স্বাস্থ‌্য কর্মীরা। কঠোর ভাবে খুঁজতে গিয়ে জানতে পারে তিনি একজন বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং তার স্থায়ী ঠিকানা নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের উত্তর ঘুমধুম কচুবনিয়ার বড়ুয়া পাড়ায়।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!