ডুলাহাজারায় একই পরিবারের ৫ জন করোনা ‘পজিটিভ’, কারও সহযোগিতাই মিলছে না!

কক্সবাজারে আজও ২৪ জনের করোনা টেষ্ট, রিপোর্ট সবারই ‘নেগেটিভ’

মহিউদ্দিন মাহী, প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে করোনাভাইস পরীক্ষায় ধরা পড়া চকরিয়ার ডুলাহাজারার ফল ব্যবসায়ীর পরিবারে এবার ৪ জনই ‘পজিটিভ’ এসেছে। শুক্রবার (১৫ মে) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে চকরিয়া উপজেলার ‘পজিটিভ’ হওয়া একদিনেই ১৫ জন আক্রান্তের মধ্যে একই পরিবারের ওই ৪ জনও আছেন। তাদের মধ্যে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা ও ৩ বছরের এক শিশুসহ ৪ জনই কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন।

এর আগে রোববার (১০ মে) ডুলাহাজারা এলাকার ৪২ বছরের ওই ফল ব্যবসায়ীর করোনা ‘পজিটিভ’ ধরা পড়ে। অথচ গেলো ৫ দিন পার হলেও তাদের বাড়িটি লকডাউন করা হয়নি। বাড়িতে লাল পতাকা কিংবা কোন ব্যানারও টানানে হয়নি। যে পরিবারে ৭ জন সদস্য আছেন, সেখানে ৫ জনই এখন সংক্রমিত হয়েছেন। এখন বাকি দুই সদস্যেরও করোনার ভয় পেয়ে বসেছে।

তাদের পরিবারের ৫ সদস্য করোনা ‘পজিটিভি’ হলেও চকরিয়ার ডেডিকেটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন করোনা আক্রান্ত কলেজ ছাত্র ইবনুল কাশেম আসিফ। তাদের বাড়ি হলো চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার বনানী গ্রামে।

তিনি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে ফোনে জানান, তার বাবা গত ১০ মে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে করোনা টেষ্টে পজিটিভ হবার পর তাদের ৬ জনের করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের মধ্যে ৮০ বছরের দাদীকে নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল গোটা পরিবার। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সিভিল সার্জনকে ফোন করেও তাদের বাড়িতে করোনা স্যাম্পল করাতে পারেননি।

আসিফ বলেন, আমার বাবা প্রথমে করোনা আক্রান্ত হবার খবরে কোন গাড়ি আমাদের তুলেনি। চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার জন্য কত টমটম, সিএনজি দেখলাম, কেউই বহন করেনি আমাদের। অনেক কষ্ট করে একটি পিকআপে করে ৮০ বছরের দাদী, ৩ বছরের বাচ্চাসহ পরিবারের ৬ জনকে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছতে হয়েছে। সেখানে গিয়ে (১২ মে) অনেক কষ্ট করে স্যাম্পল দিয়ে আসি।

করোনা আক্রান্ত আসিফ বলেন, আজ শুক্রবার পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার এজন ভদ্রলোক বিকেলের দিকে আমরা করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছি, এটি জানিয়েছেন। আমরা নতুন করে ৪ জন আক্রান্তের খবর শুনে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি বলেছেন, ‘যদি আইসোলেশন হাসপাতালে যেতে চাই তাহলে নিজ উদ্যোগে গাড়ি নিয়ে যেতে হবে’। পরে ইউএনও স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি বিষয়টি নিয়ে আগামিকাল (১৬ মে) সকাল ১০টায় মোবাইলে যোগাযোগ করতে বলেছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার ভিশন ডটকম থেকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহবাজের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, একই পরিবারে নতুন করে যে ৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তারা বলেছেন চকরিয়া আইসোলেশন হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। সেক্ষেত্রে তাদের আনতে এম্বু্ল্যান্স লাখবে। এম্ব্যুালেন্সের জন্য এনজিও সংস্থা আইওএমের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এম্ব্যুালেন্স পাঠাবে বলেছে, তবে কোন সময় পাঠাবে তা জানায়নি।

ডা. শাহবাজ বলেন, যদি এম্বুল্যান্সে পাওয়া যায় তাদের চকরিয়া আইসোলেশন হাসপাতালে নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গত, এই পরিবারের প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি একজন ফল ব্যবসায়ী। তিনি চকরিয়ার চিরিঙ্গা ষ্টেশনে তরমুজ এবং বাঙ্গির ব্যবসা করতেন। সেখানে নাটোর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ফল আসে গাড়িতে। তা প্রতিদিন বিক্রি করতেন তিনি। হঠাৎ ৯ মে উপসর্গ দেখা দিলে পরিবারের কথা চিন্তা করে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নমুনা দিতে যান। সেখানে গায়ে জ্বর থাকায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়। পরদিন তার করোনা রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!