করোনার নতুন ‘হটস্পট’ চকরিয়া, একদিনেই শিশুসহ ১৫ জন শনাক্ত

কক্সবাজার শহরের করোনা রোগীদের বাড়িতেই রাখা হচ্ছে, আশপাশে আতঙ্ক!

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চট্টগ্রামফেরত গার্মেন্টকর্মীর শরীরে গত ২৭ এপ্রিল এই ভাইরাস শনাক্তের মধ্যদিয়ে করোনা রাজ্যে প্রবেশ করে চকরিয়া। এরপর থেকে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এখানে।

করোনার কবল থেকে বাদ পড়েননি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নার্স, মসজিদের মোয়াজ্জিনসহ সাধারণ মানুষও।

সর্বশেষ শুক্রবার (১৫ মে) একদিনেই শনাক্ত হয় ১৫ মাসের শিশুসহ একসাথে ১৫ জন। সবমিলিয়ে এখানে শুক্রবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। তন্মধ্যে সরকারি অফিসের স্টাফসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যক্তিরা রয়েছেন।

এ নিয়ে কক্সবাজার জেলায় চকরিয়া উপজেলা এখন করোনার ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে। এতে বেশ আতঙ্কিত রয়েছেন এখানকার মানুষ।

অপরদিকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরাও দোকান খুলে জমজমাট বিকিকিনিতে মত্ত রয়েছেন। প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বারবার বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে অসচেতন মানুষ তা মানছেন না।

তবে আশার কথা হচ্ছে, এই আতঙ্ক ও হতাশার মধ্যেও ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত ১০ জন নারী-পুরুষ হোম ও হাসপাতালের আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, অসাবধানতা ও বেপরোয়া ঘোরাঘুরির কারণেই চকরিয়াতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাদের করোনা শনাক্ত হয়েছে তাদের বাড়ি লকডাউন এবং সংষ্পর্শে আসা লোকজনকে শনাক্ত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা হলেও সাধারণ মানুষ সচেতন হচ্ছেন না। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের সংষ্পর্শে আসা লোকজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার জেলায় শুক্রবার (১৫ মে) পর্যন্ত ১৫৩ জন শিশু, নারী, পুরুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তন্মধ্যে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারখোপ গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল্লাহর স্ত্রী ছেনুআরা বেগম ৩০ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রথম এবং একমাত্র মৃত্যুবরণকারী রোগী। ইতোমধ্যে মোট ৩৩ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে তথ্য মিলেছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!