চকরিয়ায় একদিনে করোনা শনাক্ত ১৫ জনের মধ্যে আছেন যারা

নাইক্ষ্যংছড়ির করোনা রোগীকে রামু আনা হয়নি, বাড়িতেই আছেন

আনছার হোসেন, সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার জেলায় করোনাভাইরাসের ‘হটস্পট’ হয়ে উঠা চকরিয়ায় একদিনেই শনাক্ত হয়েছে ১৫ জন করোনা রোগী। শুক্রবার (১৫ মে) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে যে ২১ জন নতুন রোগীর করোনা ‘পজিটিভ’ এসেছে তাদের ১৫ জনই ওই একটি উপজেলার বাসিন্দা।

এ নিয়ে চকরিয়া উপজেলায় এখন পযন্ত ৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। যাদের মাঝে জেলার প্রথম রোগী মুসলিমা খাতুনের নমুনা টেষ্ট হয়েছিল ঢাকাস্থ আইইডিসিআর ল্যাবে। অন্য ৫২ জনই কক্সবাজার ল্যাবে শনাক্ত হয়েছেন।

চকরিয়ায় যেন কোন ভাবেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দিনে দিনে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগীদের মধ্যে স্বয়ং উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও একজন দন্ত চিকিৎসকও রয়েছেন। আছেন মসজিদের মুয়াজ্জিন ও নার্সও।

শুক্রবার একদিনে যে ১৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে মাত্র ১৫ মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

সুত্র মতে, শুক্রবার যে ১৫ জন করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছেন তাদের মধ্যে দুইটি শিশু ও দুইজন মহিলা রয়েছেন।

এদের মধ্যে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সর্বাধিক ৬ জন রয়েছেন। এই তালিকায় যারা আছেন তারা হলেন চকরিয়া বিমান বন্দর পাড়ার ২৫ বছরের এক যুবক, মাষ্টার পাড়ার ৩১ বছর বয়সী একজন, চকরিয়া ভরামুহুরী এলাকার এক ব্যক্তি, হালকাকারার দুইজন, যাদের একজনের বয়স ২২ বছর, অন্যজনের বয়স উল্লেখ নেই, ডুলাহাজারার ১৮ বছর বয়সী যুবক, ৩৫ বছর বয়সী নারী, ৩ বছর বয়সী এক শিশু ও ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা, এই ইউনিয়নের মালুমঘাট এলাকার ২৪ বছর বয়সী যুবক ও ৫৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ, আছেন আজিজ নগরের ৩৯ বছর বয়সী একজন। এছাড়াও কাকারা এলাকার ১৮ বছর বয়সী যুবক, কাজী পাড়ার ২৬ বছর বয়সী যুবক ও বিনামারা এলাকার মাত্র ১৫ মাস বয়সী এক শিশু।

শুক্রবার (১৫ মে) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১৮৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা হয়। যাদের মধ্যে নতুন ২১ জন ও ‘ফলোআপ’ রোগী দুইজন ‘পজিটিভ’ এসেছে। যাদের মধ্যে ১৫ জনই চকরিয়ার বাসিন্দা।

শুক্রবার টেষ্ট হওয়া ১৮৪ রোগীর মধ্যে ১৬১ জনের রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ এসেছে।

সুত্র মতে,  এ দিনও পার্বত্য বান্দরবান জেলা ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলায় নতুন করে করোনা পজিটিভ কোন রোগী পাওয়া যায়নি। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারও এসব এলাকায় করোনা পজিটিভ রোগী ছিল শূণ্য।

প্রসঙ্গত, টানা ৪৫ দিনে কক্সবাজার জেলায় ১৪৮ জন (রোহিঙ্গা ছাড়া) ও বান্দরবান জেলায় ১০ জন এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলায় ৭ জন করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও রোহিঙ্গা শিবিরে শনাক্ত হয়েছে ৩ জন। এখানে গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা শিবিরে শনাক্ত হওয়া দুইজন রোগীর মধ্যে একজন ছিল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাসিন্দা। সেই হিসেবে রোহিঙ্গা শিবিরে বৃহস্পতিবার একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার শনাক্ত হওয়া তিনজন রোহিঙ্গার মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নন, তিনি এনজিও কর্মী। তিনি উখিয়ার বাসিন্দা।

অপরদিকে ভুল পরিচয় দিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে করোনার নমুনা জমা দিয়ে ‘পজিটিভ’ আসা অঙ্কিত মোহন বড়ুয়াকে বান্দরবান জেলার হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে।

ইতোপূর্বে ঢাকায় আইইডিসিআর ল্যাবে শনাক্ত হওয়া কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগী মুসলিমা খাতুনসহ কক্সবাজার জেলায় এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১২৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

কক্সবাজার ল্যাবে শুক্রবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৪৬ জন সন্দেহভাজন রোগীর ‘কোভিড ১৯’ পরীক্ষা করা হয়েছে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির ও কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. রূপেশ পালও কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে ডা. শাহজাহান নাজির কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, কক্সবাজার জেলায় এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩৫ জন, রামু উপজেলায় ৪ জন, চকরিয়া উপজেলায় ৫৩ জন (প্রথম রোগীসহ), মহেশখালী উপজেলায় ১২ জন, উখিয়া উপজেলায় ১৫ জন, টেকনাফ উপজেলায় ৯ জন, পেকুয়া উপজেলায় ১৯ জন ও কুতুবদিয়া উপজেলায় দুইজন রয়েছেন। এছাড়াও রোহিঙ্গা শনাক্ত হয়েছে ৩ জন।

তবে কুতুবদিয়া উপজেলার নামে ইতোপূর্বে একজন রোগী থাকলেও তিনি নমুনা পরীক্ষা করেছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মাধ্যমে। যিনি কক্সবাজার শহরের পূর্ব কুতুবদিয়া পাড়া এলাকায় বসবাস করেন। সেই হিসেবে কুতুবদিয়া ‍উপজেলায় এখন করোনা রোগী মাত্র একজন, যিনি শুক্রবার শনাক্ত হয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!