সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন পেকুয়ার প্রথম রোগী, ২০ জনের কারও উপসর্গ নেই!

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন পেকুয়ার প্রথম রোগী, ২০ জনের কারও উপসর্গ নেই!

মোঃ ছফওয়ানুল করিম, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়া নারী ফাতেমা নার্গিস এমইউপি। তিনি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য।

গত বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় পরপর দ্বিতীয়দফা পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ আসায় রামু কোভিট-১৯ হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টার থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি পেকুয়ায় ফিরে আসেন। এ সময় পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ছাবের আহমদ তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

তবে একইদিন শনাক্ত হওয়া আরেক করোনা রোগী শফিউল আলমের পরীক্ষায় আবারও পজিটিভ আসায় তিনি এখনও রামু আইসোলেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়াও পেকুয়ার অপরাপর শনাক্ত হওয়া আরও ১৮ রোগীর মধ্যে ১৫ জন রোগী চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা বাড়িতে হোম আইসোলেশনে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মুজিবুর রহমান।

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা ফাতেমা নার্গিস কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, তিনি শনাক্ত হয়ে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তার কোন উপসর্গ দেখা যায়নি। তবুও তিনি রামু আইসোলেশনে ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলেছেন। ঠিক ১৪ দিন পর তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

তিনি বলেন, প্রথমে রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হলেও কখনো মনোবল হারাইনি।

তবে তিনি মনে করেন, সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়েছেন।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মুজিবুর রহমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘আশ্চর্য্যজনক ভাবে এ পর্যন্ত পেকুয়ায় শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ রোগীর কোন প্রকার উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি সুস্থ হওয়া রোগীরও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন উপসর্গ ছিল না। তবে ৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে একজনের সামান্য জ্বর, বাকি ২ জনের সামান্য শুকনা কাঁশি ছিল। তাও দুইদিন পর ভাল হয়ে যায়। বাকিরা সবাই সুস্থই আছেন।’

তিনি মনে করেন, উপসর্গহীন করোনা রোগীরাই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা তারা সুস্থ হিসেবেই সবার সাথে মিশে, যার ফলে দ্রুত ভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করে।

জানা যায়, পেকুয়ায় প্রথম দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত হন গত ৩০ এপ্রিল। এদের একজন চট্টগ্রাম থেকে এবং অপরজন সাতকানিয়া থেকে আসায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে ৬ মে পেকুয়া বাজারের এক ফার্মেসী ব্যবসায়ী শনাক্ত হবার পর ৭ মে তার দোকানের কর্মচারীদের পরীক্ষা করা হলে একসাথে ৯ জনের করোনা পজিটিভ হয়।

এতে পেকুয়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাদের কন্টাক্টে যাওয়া অন্তত ৭০ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে সেখান থেকে শনাক্ত হন আরও ৫ জন। সবাই ওই ফার্মেসী ব্যবসায়ীর কন্টাক্টে যাওয়া ব্যক্তি। এদের মধ্যে একজন ল্যাব সহকারী থাকায় গত বুধবার নূর হাসপাতাল প্যাথলজি লকডাউন করে প্রশাসন।

হাসপাতাল সূত্র জানান, পেকুয়ায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৪৮২টি। তার মধ্যে ফলাফল পাওয়া গেছে ৩৭২টি। এতে পজিটিভ রিপোর্ট আসে ২০ জনের।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!