ঈদগাঁওতে দুই বন কর্মকর্তার ‘অঘোষিত জমিদারি’, বনের জমি লাখ টাকায় বিক্রি!

ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনায় বন রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার ‘অঘোষিত জমিদারি’, বনের জমি লাখ টাকায় বিক্রি!

আনোয়ার হোছাইন নাছির উদ্দিন আল নোমান, ঈদগাঁও
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অধীন ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জের আওতাভূক্ত বনবিভাগের জায়গায় অঘোষিত জমিদারী চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ওই বন কর্মকর্তাদ্বয় নানা কায়দায় বনজ সম্পদ উজাড় করে বনবিভাগের জায়গা প্লট আকারে বিক্রি করে ‘ভূমিখেকো’দের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

তবে মাসদুয়েক আগে থেকে করোনার কারণে দেশজুড়ে সরকার লকডাউন জারি করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। এই সুযোগে লকডাউন যেন তাদের সামনে আশীর্বাদ হয়ে উঠে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সংরক্ষিত বনের গাছ উজাড় ও প্লট আকারে বনের জায়গা বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু করে দেন ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন।

অভিযোগ উঠেছে, ওই দুই কর্মকর্তা সরকারি বনজ সম্পদ রক্ষকের দায়িত্বে থাকলেও রাতারাতি অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে বনজ সম্পদ ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেন। তারই অংশ হিসেবে অতিসম্প্রতি ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জের অধীন ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পাশে মোক্তারের দোকান সংলগ্ন হাজীর বাগান নামে পরিচিত বনের পুরো গাছ বাগান রাতারাতি শতাধিক শ্রমিক দিয়ে উজাড় করেন। পরে ওই বনভূমি একই এলাকার জানে আলম নামের এক লোকের মধ্যস্থতায় রামু উপজেলার আরিফ নামের এক যুবককে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে বাউকুল চাষ করতে দেন।

অভিযোগ মতে, ইতোমধ্যে আরিফ নামের ওই ব্যক্তি পুরো বন এলাকা ন্যাড়া করে তাতে প্রাথমিকভাবে কিছু কুল চারা রোপনও করেছেন।

এই সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে পদস্থ কর্মকর্তারা জানতে পারলে তাদের চোখ ফাঁকি দিতে অভিযানের নামে লোক দেখানো আইওয়াশ করে দায় সারা হয়েছে।

অথচ সরেজমিনে দেখা যায়, ওই বন এলাকায় কুল চারা রোপন চলছে। এই বনের জায়গার পরিমাণ আনুমানিক ৫ থেকে ১০ একের হতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনায় বন রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার ‘অঘোষিত জমিদারি’, বনের জমি লাখ টাকায় বিক্রি!

আরিফের সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, বন বিভাগের সাথে বোঝাপড়া করে জায়গাটি বাউকুল চাষের জন্য নিয়েছেন। তার এই বাগানের নেপথ্যে একজন সংসদ সদস্য ও এক সাবেক ফুটবলারের আশীর্বাদ রয়েছে। যা বিভাগীয় বন কর্মকর্তাও অবগত বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের মোবাইলে টানা তিনদিন কল দেয়া হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এমনকি তার ইমু আইডিতেও ওই জায়গার ছবি এবং ভিডিও পাঠালেও তিনি কোন সাড়া দেননি।

অপরদিকে বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জায়গাটি কৃষি প্লটের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

তবে স্থানীয় রেঞ্জ বা বিট কর্মকর্তা এভাবে বনের জায়গা বরাদ্দ দিতে পারেন কিনা, জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। বরং প্রতিবেদককে একান্তে দেখা করার অনুরোধ জানান।

স্থানীয়রা জানান, রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বনজ সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুমিদস্যু ও বনখেকোদের হাতে তুলে দিয়ে ওই টাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মহিলাদের সাথে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ সংক্রান্ত অসংখ্য ছবি, ভিডিও ও অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদকের হস্তগত হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী মূল্যবান এই বনজ সম্পদ রক্ষায় সরেজমিনে তদন্ত করে তা উদ্ধারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!