‘করোনা যুদ্ধে’ সফলতা দেখাচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগ, আক্রান্ত ৫ জনই সুস্থ

‘করোনা যুদ্ধে’ সফলতা দেখাচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগ, আক্রান্ত ৫ জনই সুস্থ

মো. আবুল বাশার নয়ন, বান্দরবান
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মহামারী করোনা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পর এর সংক্রমণ বিস্তৃতি পেয়েছে সীমান্ত জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়ও। এই উপজেলার দুটি ইউনিয়নে করোনা আক্রান্ত হয়েছে পাঁচজন। জেলায় সবচেয়ে বেশি কেরোনা আক্রান্ত উপজেলা এটি। এই পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে বেড়েছে কাজের চাপ। দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে স্বাস্থ্য বিভাগের কাজে সন্তুষ্ট উপজেলার সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ সমাজের সচেতন নাগরিকদের অবদান রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তার, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে করোনা যুদ্ধে।

জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার তাবলীগফেরত এক বাসিন্দার প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়। ২৬ এপ্রিল তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এরপর ২৭ এপ্রিল সদর ইউনিয়নের কম্বনিয়া গ্রামের আরো একজন নারী করোনা শনাক্ত হলে ২৮ এপ্রিল তাকে আইসোলেশনে নেয়া হয়। গত ৮ মে সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া কম্বনিয়া গ্রামের আলম আরা, তার শিশু পুত্র ও এক যুবতী সুস্থ হয়ে ১৩ মে বাড়ি ফিরেছেন।

অন্যদিকে বিদেশফেরতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এবং রোগীর সংষ্পর্শে থাকায় উপজেলায় ৫০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এদের মধ্যে ৪৮ জন হোম কোয়ারেন্টিন, ১ জন প্রাতিষ্ঠানিক ও ১ জন হাসপাতাল আইসোলেশনে। এসকল ব্যক্তিদেরও নানাভাবে পরামর্শ ও চিকিৎসা দিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর অন্যান্য হাসপাতালের মতো অগ্রিম প্রস্তুতি হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়। চাহিদা অনুযায়ী সুরক্ষা সরঞ্জাম হিসেবে পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক, চশমা, হেক্সিসল, হ্যান্ড গ্লাভসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এই কারণে হাসপাতালে আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টিন এবং মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেকটা নির্ভয়ে মানুষের মাঝে সেবা দিতে পারছেন।

এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন জানান, করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে করোনা বিষয়ে ধারণা দিচ্ছেন। কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনে স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা সেবার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে। তবে হাসপাতালে সংকট থাকা অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসক বাড়ানো হলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আস্থা বাড়বে মানুষের।

এদিকে গত এক মাসের অধিক সময় ধরে করোনা বিষয়ে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাঃ আবু জাফর মো. ছলিম, মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবু রায়হান ও ডাঃ আব্দুল্লাহ আল আহসান আইসোলেশন ওয়ার্ড ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য পরিদর্শক পল্লব বড়–য়া, ল্যাব টেকনিশিয়ান ছৈয়দ নুর কাদেরী, ইপিআই টেকনেশিয়ান দুংহ্লাগ্য চাক, এ্যালি চাক, হাসপাতালের কর্মকর্তা আবুল কালাম, পরিসংখ্যানবিদ মাহবুব, স্বাস্থ্য সহকারী মো. শাহাজাহান করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গেল এপ্রিল মাসে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ করোনা টেষ্ট করেছে। এই উপজেলায় এপ্রিল মাসে ১৩০ জনসহ ১০ মে পর্যন্ত ১৭০ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। ৫ জন রোগী সুস্থ করে তোলার কৃতিত্বও নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগের।

জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাঃ আবু জাফর মো. ছলিম বলেন, করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসক টিম। প্রান্তিক জনগোষ্টীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে হাসপাতালের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিশেষ করে বিদেশফেরত এবং ঢাকা-নারায়নগঞ্জ থেকে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় তাদের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। এসব কাজে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!