রামু আইসোলেশন থেকে ৩ জনকে রেফার

ছাত্রলীগ নেতা মাহিন ‘ভালো’ আছেন, তবুও যাচ্ছেন চট্টগ্রামে

ছাত্রলীগ নেতা মাহিন ‘ভালো’ আছেন, তবুও যাচ্ছেন চট্টগ্রামে

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

‘ভালো’ থাকার পরও রামু আইসোলেশন হাসপাতাল থেকে তিনজন করোনা রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম পাঠাতে হচ্ছে। কক্সবাজারে শুধুমাত্র আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ও ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু না থাকার কারণে ওই তিনজন রোগীকে চট্টগ্রাম পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে একজনকে মঙ্গলবার (১২ মে) পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্য দুইজনকে আজ বুধবার (১৩ মে) পাঠানো হবে। এরা তিনজনই কক্সবাজার শহরের অধিবাসী।

এদের মধ্যে প্রশান্ত বড়ুয়ার বুকে ব্যথা থাকায় মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্য দুইজনের মধ্যে কক্সবাজার সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মহিন উদ্দিন মাহিনের শ্বাসকষ্ট ও শহরের আরেক যুবক ইয়াছিন আরাফাতের প্রচন্ড কাঁশি থাকায় আজ বিকালে চট্টগ্রাম পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সুত্র মতে, তিনজনই রোগীই ভালো ছিলেন। তারপর ভবিষ্যতের ‘রিস্ক’ বিবেচনায় আগেই তাদের চট্টগ্রাম পাঠানো হচ্ছে।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং রামু আইসোলেশন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া ওই তিনজনকে চট্টগ্রামে পাঠানোর বিষয়টি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কয়েকদিন আগে আসা প্রশান্ত বড়–য়ার বুকে সামান্য ব্যথা দেখা গিয়েছিল। তার বুকের একটি এক্স-রে করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রামু আইসোলেশনে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই। আর তার পরিবারের সদস্যরাও চাইছেন উন্নত চিকিৎসা নিতে চট্টগ্রাম যেতে। তাই মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, মহিন উদ্দিন মাহিনের (২৬) মঙ্গলবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। অক্সিজেন দেয়ার পর এখন ভালো আছেন। তিনি অক্সিজেন ছাড়াই ভালো আছেন। ইয়াং ছেলে, চট্টগ্রাম পাঠানোর মতো তেমন উপসর্গ নেই। কিন্তু চিকিৎসকরা সবকিছু বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি কোন কারণে অবস্থার অবনতি হয়, তাহলে আইসিইউ সাপোর্ট দেয়ার মতো ব্যবস্থা কক্সবাজারে নাই। সেই কারণে আগেই তাকে চট্টগ্রাম পাঠানো হচ্ছে।

তার মতে, ‘ভালো থাকা’ মাহিনকে অক্সিজেন ছাড়াই চট্টগ্রাম পাঠানো হবে। এতটাই সুস্থ আছেন মাহিন।

ছাত্রলীগ নেতা মাহিন ‘ভালো’ আছেন, তবুও যাচ্ছেন চট্টগ্রামে

অপরদিকে ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, আরেক যুবক ইয়াছিন আরাফাতের (২৮) মঙ্গলবার কাঁশির মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। কাঁশতে গিয়ে সামান্য রক্তও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তিনিও এখন ভালো আছেন। তাকেও ভবিষ্যত ‘রিস্ক’ বিবেচনায় চট্টগ্রাম পাঠানো হবে।

রামু আইসোলেশন হাসপাতাল সুত্র মতে, মহিন উদ্দিন মাহিন ও ইয়াছিন আরাফাতকে আজ বুধবার দুপুরের পর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের পরিবারকেও জানানো হয়েছে।

রামু আইসোলেশন হাসপাতালের সদস্য সচিব ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া মনে করেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউ যদি চালু রাখা যেতো, তাহলে কোন করোনা রোগীকেই চট্টগ্রামে পাঠানোর দরকার হতো না। রামুতে পর্যবেক্ষণে রেখে কোন কারণে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সদর হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো যেতো।

প্রসঙ্গত, মহিন উদ্দিন মাহিন কক্সবাজার সদরের দক্ষিণ ডিককুলের বাসিন্দা। সদর উপজেলা পরিষদের পেছনে তার বাড়ি। ইতোমধ্যেই চট্টগ্রামে যাওয়া প্রশান্ত বড়ুয়ার বাড়ি কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনায়। তিনি ডিবিসি টেলিভিশনের কক্সবাজার সংবাদদাতা শংকর বড়ুয়া রুমির ভাই। অন্যজন ইয়াছিন আরাফাত শহরের টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, রামু আইসোলেশন হাসপাতালে বর্তমানে ১৪ জন ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে আজ বুধবার দুইজন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রেফার হতে যাচ্ছেন। ইতোপূর্বে এই হাসপাতাল থেকে ২২ জন করোনা রোগী সুস্থ বাড়ি ফিরেছেন। গত মঙ্গলবারও (১২ মে) সর্বশেষ ৭ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আশা করছেন, দ্রুততর সময়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নির্মাণাধীন আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) চালু হয়ে যাবে। তখন কোন রোগীকেই আর চট্টগ্রাম পাঠানো হবে না।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!