ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসা

ছুরিকাঘাতের পর অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা, অতঃপর মৃত্যু!

পেকুয়ায় থুথু ফেলতে নিষেধ করায় কলেজ ছাত্রকে ছুরিকাঘাত

হানাহানি-মারামারি আর গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী সবসময় খবরের শিরোনাম হয়ে আসছে। করোনাভাইরাসে স্তব্ধ জীবনযাত্রার মাঝেই আবারও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের ভয়ংকর রূপ দেখল বাঁশখালী।

উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধনপুরে অর্ধযুগ ধরে চলছে প্রতিহিংসা এবং আধিপত্যের বিরোধ। এরই ধারাবাহিকতায় কথা কাটাকাটির জেরে মঙ্গলবার সকালে সেখানে প্রথমে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আহত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে নেয়ার পথে প্রতিপক্ষরা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে দ্বিতীয় দফায় হামলা করেন। তখন আরও দুজন আহত হন। এরপর হাসপাতালে নেয়ার পথেই যুবকের মৃত্যু হয়।

নিহত জহিরুল ইসলাম (৩৭) দক্ষিণ সাধনপুর গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত জহিরুলের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আরেকটি পরিবারের গত ৫-৬ বছর ধরে বিরোধ চলছে। জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে সেটা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে গিয়ে ঠেকেছে। দুই পরিবারের সঙ্গে গ্রামের মানুষও দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। কয়েক বছর আগে তাদের এই বিরোধের জেরে আরও একটি খুনের ঘটনা ঘটেছিল।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘গতকাল রাতে জহিরুলের সঙ্গে ওই গ্রামের প্রতিপক্ষের কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হয়। আজ সকালে এলাকার রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল জহিরুল। তখন প্রতিপক্ষের কয়েকজন যুবক হঠাৎ এসে তার পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত জহিরুলকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দক্ষিণ সাধনপুর এলাকায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ব্যারিকেড দিয়ে সেটি আটকে হামলা করে। তখন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা আরও দুজন আহত হন। এরপর হাসপাতালে নেয়ার পথেই জহিরুল মারা যান।’

ওসি রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!