কক্সবাজারে বন্ধের ঘোষণা দিয়েও খোলা হল মার্কেট, বিধি মানছেন না কেউ

কক্সবাজারে বন্ধের ঘোষণা দিয়েও খোলা হল মার্কেট, বিধি মানছেন না কেউ

মহিউদ্দিন মাহী, প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েও কক্সবাজার শহরে শপিংমল খুলে বসেছেন দোকানদাররা। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মার্কেট না খুলতে লাঠি বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ঘোষণা থাকলেও মোটেও দেখা যাচ্ছে না তা বাস্তবে। তাই তো হরহামেশা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আসন্ন ঈদের কেনাকাটা করতে সাধারণ মানুষ।

কোন কোন মার্কেটে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে ভিন্নপথ দিয়ে কেনাকাটায় আগ্রহী মানুষদের ভেতরে ঢুকানো হচ্ছে। আর এ কারণেই উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে মার্কেটগুলোতে।

মঙ্গলবার (১২ মে) কক্সবাজার শহরের হকার মার্কেটের প্রতিটি দোকান খুলে বসেছেন দোকানিরা। সেখানে স্বাভাবিকের মতো কেনাকাটা করছেন লোকজন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন আসন্ন ঈদের কেনাকাটা করতে। ১০ হাত জায়গার ভেতরে অর্ধশতাধিক মানুষ গাদাগাদি করে মার্কেটিং করছেন।

কক্সবাজারে বন্ধের ঘোষণা দিয়েও খোলা হল মার্কেট, বিধি মানছেন না কেউ

বস্ত্রের দোকানগুলোতে করোনাভাইরাসের কঠিন সময়ের সামাজিক দুরত্ব কেউ মানছেন না। এছাড়াও ফুটপাতেও একই ভাবে বস্ত্র বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে শহরের ফায়ার সার্ভিসের আল নূর মার্কেটের সামনে তালা দিয়ে বন্ধ দেখা গেলেও ভেতরে সব দোকান খোলা রয়েছে।

সূত্র মতে, যারা ইতোমধ্যে কাপড়ের দোকান খুলেছেন তারা অধিকাংশই করোনা অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে এসেছেন। এই সাতকানিয়াতেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আছেন বহু মানুষ। আসন্ন ঈদে পোষাক বিক্রি করতে কর্মচারীসহ ব্যবসায়ীরা নানা ভাবে ঢুকে পড়েছেন কক্সবাজার শহরে।

সূত্রের দাবি, সম্প্রতি হকার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র বরারবর দোকান খোলা রাখতে আবেদন করেছিলেন। মেয়র মুজিবুর রহমান ওই ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সরাসরি তাদের আবেদন নাকজ করে দেন। সাতকানিয়ার ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের লকডাউন কোন ভাবেই মানছেন না।

সচেতন মানুষ মনে করছেন, যেভাবে মার্কেট খুলে বসেছে, এভাবে হলে ঘরে ঘরে হবে করোনাভাইরাস। একজন মানুষের সাথে একজন মানুষ গায়ের সাথে লেগে যাচ্ছেন। এখানে শিশু সন্তানদের কোলে নিয়ে মা-দের বেশি দেখা যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস একটি সংক্রমণজনিত রোগ। এই রোগ কার শরীরে আছে, কার শরীরে নেই তা কেউ চিনতে পারে না। খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়বে এই ভাইরাস।

কক্সবাজারে বন্ধের ঘোষণা দিয়েও খোলা হল মার্কেট, বিধি মানছেন না কেউ

এদিকে সম্প্রতি দোকান মালিক সমিতির বিভিন্ন সংগঠন ঈদের এই সময়ে সব মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করেছে। তারা বলেছিল, ব্যবসায়ীরা যাতে দোকান খুলতে না পারে সেভাবে স্বেচ্ছাসেবী এবং লাঠি বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। অথচ কাজের কাজ কিছুই বাস্তবে নেই।

করোনার এই কঠিন সময়ে সামাজিক দূরত্ব না মেনে দোকান খোলার কথা স্বীকার করেছেন খোদ দোকান মালিক সমিতির কক্সবাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল।

তিনি জানান, যারা ইতোমধ্যে দোকান খুলেছেন তারা তাদের ইচ্ছে মতোই দোকান খুলেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও তারা মানছেন না।

আমিনুল ইসলাম মুকুল মনে করেন, যদি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে তারা দোকান খুলতে সাহস পাবে না। প্রয়োজনে জরিমানা করতে হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!