পেকুয়ার ১৫ টন চাল আত্মসাত

চট্টগ্রামে শুনানিতে যাননি বহিস্কৃত চেয়ারম্যান জাহেদ

পেকুয়ার ‘চালবাজি’ তদন্ত করতে আসছেন ৩ সদস্যের কমিটি

বিশেষ প্রতিবেদক, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার বহুল আলোচিত ত্রাণের ১৫ টন চাল আত্মসাতের ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে হাজিরা দিয়েছেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদাতসহ বেশ কয়েকজন। তবে নোটিশ পেলেও এতে সাড়া দেননি সাময়িক বহিষ্কৃত টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, যাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিস্কার করা হয়েছে।

তার ঘনিষ্টজনরা বলছেন, গ্রেপ্তারের আশংকা থেকেই চেয়ারম্যান জাহেদ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে হাজিরা দেননি।

এদিকে সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার। তবে তিনি একটি লিখিত জবাব পাঠিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানান, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল আত্মসাতের ঘটনায় অধিকতর শুনানির জন্য তদন্ত কমিটির বিগত ৪ মের তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের গৃহীত বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত সমূহের কতিপয় বিষয়াদি সুষ্পষ্টীকরণের জন্য গত রবিবার (১০ মে) পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৯ জনকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তলব করা হয়।

রোববারের শুনানিতে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তদন্ত কমিটি ত্রাণের চাল আত্মসাতের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করেছেন।

তারা জানান, অন্যদের সাথে শুনানি শেষ করে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আধাঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে তদন্ত কমিটি। তবে এ প্রসঙ্গে মিডিয়ায় বক্তব্য দিতে চাননি কেউই।

অংশ নেওয়াদের অনেকেই বলেছেন, তদন্তাধীন বিষয়ে তারা যেন মিডিয়ায় কোনো কথা না বলেন সেজন্য তদন্ত কমিটি তাদের সাবধান করে দিয়েছেন।

এদিকে ওই শুনানিতে হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদের সাথে পিআইও অফিসের একজন কার্য সহকারী ও উপজেলা ভূমি অফিসের একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকেও বিভাগীয় কমিশনার অফিসে কেন ডাকা হয়েছে তা নিয়ে নানা কানাঘুষা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে টৈটং ইউপি সচিব আবদুল আলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ১৫ মেট্রিক টন চালের বিষয়ে খুঁটিনাটি অনেক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। আমি আমার আগের বক্তব্যই উপস্থাপন করেছি। যা ঘটেছে এবং যা দেখেছি তাই বলেছি।’

শুনানিতে অংশ নেওয়া পেকুয়ার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুভ্রাত দাশ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাডামসহ আমরা মোট ৭ জন শুনানিতে অংশ নিয়েছি। তদন্তাধীন বিষয়ে আমাদের মিডিয়ায় বক্তব্য দিতে নিষেধ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে পেকুয়ার বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও আলোচিত ত্রাণের চাল আত্মসাত মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম, আলোচিত ১৫ টন ত্রাণের চালের ট্যাগ অফিসার কামাল পাশা ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে টেলিফোনে বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে গত ৩১ মার্চ টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে বরাদ্দকৃত ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে এনে গত ২৮ এপ্রিল পেকুয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

পরদিন ২৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এক আদেশে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে ত্রাণের চাল আত্মসাতের দায়ে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

৩০ এপ্রিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ থেকেও একই কারণে বহিষ্কার করা হয় তাকে।

ওইদিনই একই ঘটনার রেশ ধরে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বদলি করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। আবার ১ মে তার বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।

পরে এ ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তীকে আহ্বায়ক, কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবন্তি রায় ও কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলমকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে গত ৪ মে ওই কমিটি পেকুয়া উপজেলা পরিষদে এ বিষয়ে দিনভর শুনানি শেষে ৩৬ জনের সাক্ষ্য নেয়। পরে ওই শুনানিতে অযাচিত উপস্থিত হন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম। তদন্ত কমিটির সামনে তিনিও তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন, যদিও তাকে তদন্ত কমিটি কোন নোটিশ দেয়নি।

সর্বশেষ গত রোববার (১০ মে) পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৯ জনকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অধিকতর শুনানির জন্য তলব করা হয়।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!