হোটেল শৈবাল বারে অভিযানের দুইদিন পর ফাঁস, উদ্ধার হল ১৩৭৬ লিটার বিদেশি মদ

হোটেল শৈবাল বারে অভিযানের দুইদিন পর ফাঁস, উদ্ধার হল ১৩৭৬ লিটার বিদেশি মদ

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরের ট্যুরিষ্ট হোটেল শৈবালের পর্যটন গলফ ক্লাব বারে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চালানো অভিযান নিয়ে অনেক লুকোচুরির পর অবশেষে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনার দুইদিন পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর ঘটনাটির তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়। ইতোপূর্বে কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সাংবাদিকদের কোন তথ্য দেয়া তো দূরের কথা, সাংবাদিকদের ফোনই ধরেনি।

অবশেষে জানা গেল, ১০ মে গভীর রাতের ওই অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এক হাজার ৩৭৬ দশমিক ২১ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। ওই মদের মধ্যে ৬৪১ বোতল, পরিমাণে ৬২৯ দশমিক ৭৫ লিটার বিলাতী মদ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই হাজার ২৬২ ক্যান, পরিমাণে ৭৪৬ দশমিক ৪৬ লিটার বিয়ার রয়েছে।

এ গুলোর মধ্যে রয়েছে ফোনিক্স ক্যান ১ হাজার ৮৩৮টি, পাসপোট স্কস ১৮০ বোতল, স্কটিশ লিডার ১৮ বোতল, পেপে লোপেজ ১৭ বোতল, পেপে লোপেজ (লাল) ১৭ বোতল, ‘ভ্যাট ৬৯- ২১ বোতল, ব্লাক এন্ড হোয়াইট ৪ বোতল, গিলবেইস জিন ১১ বোতল, হোয়াইটি এন্ড ম্যাকি ৪৮ বোতল, ১০০ পিপারস ৪২ বোতল, মারলট/পিনোটাজ ৪৪ বোতল, স্যার পিটারন ৫১ বোতল, নেমিরফ ৮৪ বোতল, ব্লাক লেবেল ১২২ বোতল, হ্যানিকেন ১৪৪ ক্যান, রয়্যাল ডাচ ১৪৮ ক্যান, হোলান্ডার ৩১২ ক্যান ও ভ্যালেন্টাইনস ২৪ বোতল।

ওই ঘটনায় বারটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মোঃ শামীম উদ্দিনকে (৫৬) ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপটিমা ট্যুরিজম বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন বারটি ভাড়ায় পরিচালনা করছে।

ধৃত মোঃ শামীম উদ্দিন কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ বাহারছড়ার বাসিন্দা মৃত সুরেন্দ্র লাল বড়ুয়া ছেলে। তিনি একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) চাঁদ মিয়া বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় করা মামলা থেকে এসব তথ্য মিলেছে।

ওই মামলায় জানানো হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারি পরিচালক সোমেন মন্ডলের নেতৃত্বে একটি দল ওই অভিযানটি চালিয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

মামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া মোঃ শামীম উদ্দিন ছাড়াও বারটির মালিক তথা অপটিমা ‍ট্যুরিজমের মালিক এমএ আউয়াল চৌধুরী (ভুলু) ও বারের ম্যানেজার শফিউল বারী চৌধুরী। তারা দুইজনই পলাতক রয়েছেন।

হোটেল শৈবাল বারে অভিযানের দুইদিন পর ফাঁস, উদ্ধার হল ১৩৭৬ লিটার বিদেশি মদ

ঘটনার দুইদিন পার হওয়ার পর থানায় মামলা রুজু করে সাংবাদিকদের অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সোমেন মন্ডল। তবে সাংবাদিকদের এড়িয়ে অভিযানের বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করার বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা দেননি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ও মামলার বাদী চাঁন মিয়ার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল (মদ) অবৈধ উপায়ে সংগ্রহপূর্বক ধারণ, অধিকার অথবা দখল, সংরক্ষণ ও গুদামজাত করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ১০ এর উপধারা (১) এর দফা (ঙ), (জ) এবং ধারা ৪০-৪১ লংঘন করে একই আইনের ধারা ৩৫ (১) এর সারণীর ২৪ (গ) ২৭ ও ধারা ৪০-৪১ মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সুত্র মতে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে থানার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এদিকে সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেল শৈবালের গলফ ক্লাব বারটিতে মোঃ শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট অবৈধ মদের বিশাল মজুদ গড়ে তোলে। তারা এসব মদ হোটেল মোটেল জোনের বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন বারে সরবরাহ করে আসছিল। চোরাইপথে সংগ্রহ করা এসব মদ বিক্রি করায় সরকার কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

অপরদিকে ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর হোটেল শৈবালের একই বার থেকে বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৭৪ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন এটির মালিকানা ছিল কক্সবাজারের একজন রাজনৈতিক নেতা ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার বন্ধুর। তখনও অভিযানটি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের জনে জনে ফোন করা হয়েছিল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ওই অভিযানটি পরিচালনা করেছিলেন। সে সময়কার ঘটনায় বারের সহকারী ম্যানেজার আবদুল আলীমকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

ওই সময় হোটেল শৈবাল সংলগ্ন বারে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ মজুদ আছে, মর্মে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক শওকত ইসলাম, সহকারী পরিচালক জিল্লুর রহমান ও তত্বাবধায়ক ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে চৌকস একটি দল ওই অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।

৯৭৪ লিটার বিদেশী মদ উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জীবন বড়ুয়া বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মাদক মামলা দায়ের করেছিলেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!