কক্সবাজার শহরের করোনা রোগীদের বাড়িতেই রাখা হচ্ছে, আশপাশে আতঙ্ক!

কক্সবাজার শহরের করোনা রোগীদের বাড়িতেই রাখা হচ্ছে, আশপাশে আতঙ্ক!

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগিদের বাড়িতেই রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত তৈরি করা ডেডিকেটেড কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকেই উপসর্গ দেখা দেয়ার পর ‘কোভিড ১৯’ পরীক্ষার রিপোর্টে ‘পজিটিভ’ আসছে তাদের। অথচ এই রোগীদের উপসর্গ না থাকার কারণে ‘হোম আইসোলশনে’ রাখা হচ্ছে জানাচ্ছেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে।

শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়ার গোদার পাড়া এলাকাতেই ৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও তাদের বাড়িতেই রাখা হয়েছে। কোন মতে দায়সারা ভাবে ‘লকডাউন’ করে চলে আসছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গোদার পাড়া এলাকার সচেতন অনেকেই জানিয়েছেন, হোম আইসোলেশন থাকার পরিবেশ বাড়িতে কিংবা গোদার পাড়ায় নেই।

গত রোববার (১০ মে) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে এই এলাকাতেই স্বামী-স্ত্রীর করোনা পজিটিভ এসেছে। তাদের ঘরে আছেন ৪ মেয়ে। স্বামী-স্ত্রী মিলে ৬ জনের সংসার তাদের। তারা যে বাড়িতে রয়েছেন ওই বাড়িতে ‘হোম আইসোলেশন’ থাকার পরিবেশ নেই। যেহেতু পরিবারে আরও সদস্য আছেন তারাও যে কোন মুহুর্তে সংক্রমিত হতে পারেন।

এছড়াও উত্তর রুমালিয়ারছড়ার ছিদ্দিক হাজীর বাড়ির লাগোয়া ২ তলা ভবনের একটি বাড়িতেও দুইজন করোনা রোগী আছেন। তাদের একজন আগে পজিটিভ হয়েছেন। অন্যজন তার সংস্পর্শে এসেই সংক্রমিত হয়েছেন। তারাও ওই ভাড়া বাসাতে ‘হোম আইসোলেশন’ হিসেবে রয়েছেন।

ওই এলাকার তরুণ আরিফউল্লাহ কাইসার নুরী বলেন, আমাদের এলাকাতে চারজন করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে পুরো এলাকাজুড়ে আতংক বিরাজ করছে। এই গলিতেই প্রায় আড়াই হাজার মানুষ বসবাস করেন। কখন তাদের মাধ্যমে এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়ে, তা জানি না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্বয়ং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার বরাত দিয়ে করোনা রোগীদের জন্য তৈরি করা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সিট না থাকার খবর প্রচার হচ্ছে।

এসব বিষয় জানতে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পরে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ‘কোভিড ১৯’ পজিটিভ হওয়ার পরও যদি কোন রোগীর উপসর্গ দেখা না মিলে সেক্ষেত্রে তারা বাড়িতেই চিকিৎসা নিবেন।

তিনি বলেন, এখন কার আছে কার নেই, এটা বুঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। পুরো দেশজুড়ে যেহেতু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে পড়েছে সেক্ষেত্রে বাড়িতেই চিকিৎসা নিবেন করোনা রোগী।

উপসর্গ আছে এমন রোগীও বাড়িতে আছেন, এই তথ্য নজরে আনা হলে সিভিল সার্জন বলেন, প্রতিটি উপজেলাতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কমিটি আছে। ওই কমিটি যদি মনে করে তাহলেই করোনা রোগীদের ডেডিকেটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!