আতঙ্কে ডুলাহাজারা-ফাঁসিয়াখালীবাসি

করোনা আক্রান্ত সেই ব্যাংক ম্যানেজার হাজারজনকে বয়স্কভাতা বিলি করেছেন!

নাইক্ষ্যংছড়ির করোনা রোগীকে রামু আনা হয়নি, বাড়িতেই আছেন

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

তিনি একজন ব্যাংক ম্যানেজার। যেনতেন ব্যাংক নয়, সরকারি ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের! তিনি চকরিয়ার সোনালী ব্যাংক ডুলাহাজারা শাখার ম্যানেজার। যদিও তার বাড়ি কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া কালুর দোকান এলাকায়। তার করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় নিজেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নমুনা জমা দিয়েছিলেন। তার জানার কথা, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কেমন! কিভাবে এটি ছড়াতে পারে।

রোববার (১০ মে) তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এ দিনে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব থেকে তার জমা দেয়া নমুনার ফল ‘পজিটিভ’ আসে। এই দিন কক্সবাজার শহরে শনাক্ত হওয়া ৬ করোনা রোগীর তিনি একজন।

শিক্ষিত, সচেতন এই মানুষটি সব জেনে বুঝেই এমন কিছু কাজ করেছেন, যা শুধু পরিবারে নয়, সমাজে করোনাভাইরাসের জীবাণু ছড়াতে সহায়তা করবে!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যাংক ম্যানেজার নমুনা জমা দেয়ার পরও রোববার (১০ মে) সারাদিন ব্যাংক করেছেন। কক্সবাজার শহর থেকে পাবলিক পরিবহনে ডুলাহাজারায় ব্যাংকে গেছেন, আবার দিন শেষে তিনি বাড়ি ফিরে এসেছেন!

ডুলাহাজারার স্থানীয় সুত্র জানিয়েছেন, তিনি শুধু ব্যাংকে অফিস করেছেন, তা-ই নয়। তিনি রোববার ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সহ¯্রাধিক বয়স্ক ভাতা গ্রহীতাদের ভাতাও বিলি করেছেন!

রোববার বিকালে ডুলাহাজারা ব্যাংক ম্যানেজারের করোনা ‘পজিটিভ’ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ডুলাহাজারা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ডুলাহাজারা যে সকল অধিবাসী কক্সবাজার শহরে অবস্থান করছেন তাদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

কক্সবাজারে মেডিকেল সেক্টরে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডুলাহাজারা এক অধিবাসী বলেন, ‘আমরা তো শেষ’! আমার বাড়ির পাশেই তো সোনালী ব্যাংক।

তিনি বলেন, ব্যাংক ম্যানেজার স্যাম্পল জমা দেয়ার পরও কক্সবাজার থেকে ডুলাহাজারা গেছেন। আবার কক্সবাজার ফিরে এসেছেন। যাওয়া আসার পথে ওনি কতজনকে যে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে সেই হিসাব কিভাবে করা যাবে! এত মানুষকে কিভাবে শনাক্ত করা যাবে?

ওই মেডিকেল কর্মকর্তার মতে, এভাবে হলে তো কক্সবাজারকে রক্ষা করা যাবে না।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান রোববার গভীর রাতে কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, শনাক্ত হওয়া কক্সবাজার শহরের কোন রোগীর ঘরই লকডাউন করা হয়নি। আজ সোমবার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি অবশ্য রোগীদের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা আছেন, সেটিও জানতেন না।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দেয়া ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয়। এতো মানুষকে তো শনাক্ত করা যাবে না।

তিনি আফসোস করে বলেন, তার (সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ) দপ্তরের স্বাস্থ্য সহকারিরও অবস্থা খারাপ। তারও স্যাম্পল নেয়া হয়েছে। যিনি স্যাম্পল নেবেন, তার অবস্থা যদি খারাপ হয়ে যায় কিভাবে কাজ করা যাবে!

তিনি তাঁর দপ্তরের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন।

ডা. আলী এহসান বলেন, ওই ব্যক্তি যদি মুখে মাস্ক পরে ডুলাহাজারায় গিয়ে থাকেন, ব্যাংকে থাকাকালিন মাস্ক পরে থাকেন, তাহলে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!