চকরিয়ার ডুলাহাজারা

বাড়ি লকডাউন হয়নি, নমুনাও নেয়া হচ্ছে না! আতঙ্কে করোনা আক্রান্তের পুরো পরিবার

সৌদিতে করোনায় মারা গেছেন ২৭ বাংলাদেশি

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা চকরিয়ার ডুলাহাজারার করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাসহ ৬ জনই করোনার উপসর্গে ভোগছেন। অথচ রোববার (১০ মে) ডুলাহাজারা এলাকার ৪২ বছরের এই ফল ব্যবসায়ী কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে করোনা ‘পজিটিভ’ হওয়ার পরও তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়নি। পরদিন সোমবার (১১ মে) সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তর থেকে তাদের বাড়িতে গিয়ে স্যাম্পলও নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন করোনা আক্রান্তের পরিবার।

কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে আজ সোমবার সকাল ১১টায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ছেলে ইবনুল কাশেম আসিফ জানান, গত শনিবার (৯ মে) তার বাবার করোনা উপসর্গ দেখা দিলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আউটডোরে গিয়ে দেখান। মেশিনে গায়ে জ্বর পাওয়া গেলে তখনই চিকিৎসকরা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি দেন। পরদিন সন্দেহভাজন ‘কোভিড ১৯’ পরীক্ষার স্যাম্পল নিয়ে দিনে দিনেই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে টেষ্ট করা হলে ‘পজিটিভ’ ধরা পড়ে।

৪২ বছরের এই ফল ব্যবসায়ীর বাড়ি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহজারা ইউনিয়নের বনানী গ্রামে।

আসিফ জানান, তার বাবার করোনাভাইরাস হওয়ার খবরে পরিবারের সবাই ভেঙ্গে পড়েছেন। ইতিমধ্যে ৮০ বছরের তার দাদির জ্বর, কাশি দেখা দিয়েছে। এছাড়াও তার মা, ২ বছরের শিশুসহ ৬ জনেরও জ্বর, কাশি ও সর্দি দেখা দিয়েছে। তারা ভয়ে কোথাও বেরও হচ্ছেন না। এই মুহুর্তে তাদের চিকিৎসা দরকার।

করোনা আক্রান্তের ছেলে আসিফ বলেন, বিষয়টি চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) জানিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, ‘ঘর থেকে বের না হতে’। পরে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহবাজকে ফোন করেছিলাম। তিনিও বলেছেন, করোনা নমুনা এখন নেয়া হবে না। আগামী ১৩ মে নিতে পারবেন। তাও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে উপস্থিত হতে হবে। যদি ‘কোভিড ১৯’ টেষ্ট করার ইচ্ছে থাকে, সেক্ষেত্রে আগের দিন জানিয়ে রাখতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ইবনুল কাশেম আসিফ জানান, চকরিয়ার চিরিঙ্গা ষ্টেশনে তরমুজ এবং বাঙ্গির আড়ৎ আছে তার বাবার। সেখানে নাটোর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ফল আসে গাড়িতে। তা প্রতিদিন বিক্রি করেন।

তার বাবা হঠাৎ শুক্রবার সেহেরীর সময় জ্বর অনুভব করলে শনিবার নিজেই পরিবারের কথা চিন্তা করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পরীক্ষা দিতে যান। তার ঘরে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাও আছেন। ৩ ছেলে, এক মেয়ে, মা ও স্বামী-স্ত্রী মিলে ৭ জনের সংসার তাদের।

তিনি বলেন, যেহেতু আমার বাবা আমাদের সাথে বেশি মিশেছেন সেক্ষেত্রে আমরা সবাই ভয়ে আছি।

ডুলাহাজারার বনানী গ্রামের সচেতন কয়েকজন বাসিন্দা ফোনে জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্তের বাড়িতে কোন ধরণের লাল পতাকা কিংবা ব্যনার টানানো হয়নি। ওই বাড়ি থেকে কেউ যদি বাইরে এসে মানুষের সাথে মিশে যায়, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হবে এই এলাকার।

এদিকে এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমানের নজরে আনা হলে তিনি জানান, যে পরিস্থিতি শুরু হয়েছে এক সময় উপসর্গ দেখা দিলে সে মোতাবেক চিকিৎসা হবে।

তিনি বলেন, ‘তবুও ওই পরিবারের নমুনা নিতে চকরিয়া স্বাস্থ্য বিভাগকে আমি ফোন দিচ্ছি।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!