কক্সবাজারে নির্যাতনে মৃত্যু গর্ভবতী গৃহবধূর, হাসপাতালে লাশ ফেলে পালালো ‘খুনি’ স্বামী

কক্সবাজার শহরে নির্যাতনে প্রাণ গেল গর্ভবতী গৃহবধূর, হাসপাতালে লাশ ফেলে পালালো ‘খুনি’ স্বামী

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরের পূর্ব কুতুবদিয়া পাড়ায় রোহিঙ্গা স্বামীর কয়েকদফা মারধরে মারা গেছেন ৫ মাসের গর্ভবতী কিশোরী গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম (২০)। মারধরের পর মারা গেলে ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে জরুরি বিভাগে লাশ ফেলে পালিয়ে যান পাষন্ড স্বামী নুর হোসেন। পরে লাশের ওয়ারিশ না পেয়ে লাশ রাখা হয়েছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে।

শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব কুতুবদিয়া পাড়ার খালেদার ভাড়া কলোনিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক কলহের জের ধরে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টা, বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যায় তিনদফা প্রচন্ড মারধর করা হয় ওই গর্ভবতী গৃহবধূ আনোয়ারাকে। ঘটনা শুনে আনোয়ারার মা গেলে তার সামনেও মেয়েকে প্রচন্ড মারধর করা হয়। মা প্রতিবাদ করলে তাকে লম্বা কিরিচ নিয়ে ধাওয়া করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারি নুর হোসেন।

এমন মর্মান্তিক ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ও সাংবাদিক মোস্তফা সরওয়ার।

নিহত আনোয়ারা বেগমের মায়ের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি জানান, প্রায় ৬ বছর আগে পূর্ব কুতুবদিয়া পাড়ায় বসবাসকারি বার্মাইয়া আবদুস শুক্কুরের ছেলে নুর হোসেনের সাথে বিয়ে হয় টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার মরিচ্যাঘোনা এলাকার মৃত মীর আহমদের মেয়ে আনোয়ারার। সেই থেকে তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। বার্মাইয়া নুর হোসেন প্রায় সময়ই স্ত্রী আনোয়ারাকে বেধড়ক মারধর করতো।

তিনি জানান, আনোয়ারার সংসারে ৫ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে আনোয়ারা ৫ মাসের গর্ভবতী ছিল।

আনোয়ারা বেগমের মা লায়লা বেগম জানান, শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া করলে গর্ভবতী স্ত্রীকে মারধর করে নুর হোসেন। এই খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে মা লায়লা বেগম মেয়ের শ^শুর বাড়িতে যান। তিনি যাওয়ার পর তার সামনেই মেয়েকে আরেকদফা মারধর করে স্বামী নুর হোসেন। মা প্রতিবাদ করলে তাকে লম্বা কিরিচ নিয়ে ধাওয়া করলে তিনি পালিয়ে সমিতি পাড়ায় তার আরেক মেয়ের বাড়িতে চলে আসেন।

ওই সময় মেয়ে আনোয়ারা বেগমও ঘর থেকে পালিয়ে অন্য ঘরে আশ্রয় নেন। ওখান থেকে ধরে এনে তাকে আরেকদফা বেধড়ক মারধর করা হয়।

মা লায়লা বেগম দাবি করেন, মেয়ে জামাই নুর হোসেন দুই বোন নুর হাবা ও ছমিরা এবং তাদের স্বামী সাইফুল ও রহমানের সামনেই আনোয়ারাকে আমানুষিক ভাবে মারধর করে। কিন্তু তারা বাধা তো দেয়-ইনি, বরং উল্টো উস্কানি দিয়েছে।

সন্ধ্যার তৃতীয়দফা মারধর মা লায়লা বেগম নিজে দেখেননি, পরে মানুষের মুখে শুনেছেন। সেই মার ছিল আরও বেশি আনুষিক।

লায়লা বেগম জানান, মারধরের পর মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নুর হোসেন ও আত্মীয়স্বজনরা তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। ওখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে স্বামী নুর হোসেন ও তার দুই বোন জামাই সাইফুল ও রহমান লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে খুনি নুর হোসেনের বোন জামাই সাইফুল আনোয়ারার আরেক বোনকে ফোন করে জানায়, তার বোন আনোয়ারাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মা লায়লা বেগম, তার অন্য মেয়ের জামাই হাসপাতালে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হাসপাতালের কোন ওয়ার্ডে মেয়েকে খোঁজে পাননি। পরে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেখতে পান, তার মৃত মেয়েকে মর্গে শুইয়ে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুর্ব কুতুবদিয়া পাড়ার সমাজ সর্দার নুর উদ্দিন কোম্পানি জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে তিনি জেনেছেন, বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

প্রসঙ্গত, পলাতক নুর হোসেন মাছধরার ট্রলারের রশি তৈরির শ্রমিক হিসেবে কাজ করে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!