ঈদগড়ে এক চালের ৪ দফা টোল, চলছে নানামুখী অনিয়ম

ঈদগড়ে এক চালের ৪ দফা ট্যাক্স, চলছে নানামুখী অনিয়ম

মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন কাদের
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বিধিবহির্ভূতভাবে আমদানি-রপ্তানি টোল, খোয়াল ও হাট-বাজার নিলাম দিয়ে দরিদ্র জনসাধারণকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের কাছে?

মহামারী করোনাভাইরাস থেকে দেশের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে পুরো দেশ লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সরকারি নিদর্শনা মোতাবেক অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে দেশের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন জনগণের কল্যাণে। সেই মূহুর্তে সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে বিভিন্ন অনিয়ম করে আমদানি রপ্তানি টোল, খোয়াল ও হাট-বাজার নিলামের নামে স্থানীয় জনসাধারণকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনমনে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে রামু উপজেলার ১নং ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদ।

ইদগড়-ঈদগাঁও প্রধান সড়কে আমদানি-রপ্তানি টোল আদায় নিয়ে জনগণের রয়েছে হাজারো অভিযোগ। নেই কোনো স্থায়ী ও সঠিক নিয়ম, যা চলছে মনগড়া। চলছে ইচ্ছামত নিয়মবহির্ভূত ভাবে টোল আদায়। এমনকি অধিকাংশ টোল আদায়কারিকে দেয়া হচ্ছে না কোনো আদায় রশিদ।

নেই তেমন কোনো তদারকি। তদারকির অভাবে চলছে লাগামহীন অনিয়ম। এহেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ে দরিদ্র জনসাধারণ ও প্রান্তিক কৃষক-শ্রমিকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। দ্রুত স্থায়ীভাবে লিখিত দরিদ্র জনসাধারণের উপযোগী সমাধান আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।

ওই ইজারাদার চাল থেকে প্রতিবস্তায় টোল আদায় করেন ১৫ টাকা, রশিদের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করলেও বিনারশিদে লাখ লাখ টাকা টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ সরকার যখন কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে, ঠিক তার উল্টো তাদের কাছে ছাড় পাচ্ছে না কৃষক, মজুর এমনকি ছোট কৃষকের নিজের চাল পিকাপ ভ্যানে করে অন্যত্র নিতেও গুনতে হচ্ছে ৮/১০ হাজার টাকা, তাও আবার ইউনিয়ন পরিষদের টোকেনের মাধ্যমে।

উৎপাদিত বিভিন্ন তরিতরকারির ওপর অনিয়ন্ত্রিত টোল আদায় করতেও দেখা গেছে। কৃষকরা অতিষ্ঠ হয়ে তরিতরকারি উৎপাদন বন্ধ করতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছেন। দূর্বল কৃষক হলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগের কমতি নেই।

স্থানীয় রাইচমিল মালিক মোঃ আবু তাহের জানান, চেয়ারম্যান সড়ক নিলামের আগে অন্যত্র চাউল সরবরাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও নিলামের পর তিনি নিজে তাকে চাল সরবরাহ করতে উৎসাহিত করেছেন।

এসব বিষয়ে স্হানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম জানান, স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মধ্যে ঈদগড়ে কখনো চালের ট্যাক্স নেয়া হয়নি। সেখানে বর্তমানে একটি কুচক্রি মহল সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মহাযুদ্ধে নেমেছে। কিছু কুচক্রিবাজদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়েস বাঙ্গালী জানান, মহামারীতে ইজারা দেয়া আইন সঙ্গতিপূর্ণ কিনা দেখার বিষয় এবং চাল থেকে টোল আদায়ের অভিযোগ সঠিক, যা অনেক কৃষক তাকেও অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, আমি রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে অবগত করেছি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। তাই, আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ ভুট্টো জানান, চালের টোল ব্যবসায়ীদের জন্য, কৃষকদের জন্য নয়।

স্থানীয় কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, ঈদগড়ের কৃষকগণ ধান মাড়াই করে রাইচমিলে জমিয়ে রাখেন। নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী ধান মিলিং করে মিল কর্তৃপক্ষকে ন্যায্য মুল্যে বিক্রি করতে দেন। মিল কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে কৃষকদের ন্যায্যমুল্য পরিশোধ করে চাল নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নেই।

জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ঈদগাঁও ও ঈদগড়ে দুটি টহল পুলিশ টিমকে উৎপাদিত সব পণ্য থেকে জোরপূর্বক হুমকি-ধমকি দিয়ে দরিদ্র কৃষকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, এসব সমাধানে চেয়ারম্যানের ভূমিকা ও তৎপরতা রহস্যজনক! তাদের প্রশ্ন, একই সড়কে একই পণ্যের ওপর ৪ বারের অধিক ট্যাক্স দেয়া কিভাবে সম্ভব?

এ বিষয়ে ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জসিমের সাথে যোগাযোগ করলে বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযোগ সুত্র মতে, গত ২৭ এপ্রিলের একটি রশিদে উল্লেখ মতে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক খোয়ালের ইজারা দেয়া হয়েছে মোহাম্মদ আলমকে, কিন্তু রশিদে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বারকে।

সুত্র মতে, খোয়াল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তিকে, যার সাথে খোয়ালের কোন সম্পর্ক নাই।

এ বিষয়ে মহিলা মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি যথাযথ কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী মাস্টার সৈয়দ করিম বলেন, আমার চারটি গরু অবৈধ খোয়াল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহিমের ধানক্ষেতের পাশে যায়, কিন্তু ধান খায়নি। সেখানে যাওয়া মাত্রই ধরে এনে গোয়াল ঘরে বেধে রাখা হয়। বাধা অবস্থা থেকে স্বয়ং আব্দুর রহিম এসে গরু গুলো নিয়ে খোয়ালে দিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, এই ঘটনার পর আমার কর্মচারি মামুন কাদের রুবেলকে পাঠালে আব্দুর রহিম নিজেই খোয়ালের টাকা আদায় করেন।

খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট খোয়ালের ইজারাদার মোহাম্মদ আলম নামের কাউকে পাওয়া যায়নি। খবর নিয়ে জানা যায়, খোয়ালের ইজারাদার ধানক্ষেতের মালিক আব্দুর রহিমই।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এসব অনিয়মের শেষ কোথায়?

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!