কক্সবাজার শহরে একজন কুরআনে হাফেজের ‘করোনা’, আতঙ্কিত পুরো এলাকাবাসি

কক্সবাজার শহরে একজন কুরআনে হাফেজের ‘করোনা’, আতঙ্কিত পুরো এলাকাবাসি

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

তিনি করোনার নমুনা জমা দিয়েছিলেন উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মচারি। কিন্তু তার বাড়ি কক্সবাজার শহরের মাঝির ঘাট এলাকায়। ওই ব্যক্তি একজন কোরআনে হাফেজও। তিনি মাঝির ঘাট জামে মসজিদে নিয়মিত খতম তারাবিহ পড়ান।

আর এখান থেকেই আতঙ্কের শুরু। পুরো এলাকাবাসি এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত কক্সবাজার ভিশন ডটকমে ওই এলাকার একাধিক মানুষ ফোন করে বিষয়টি নিয়ে উস্মা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনদিন আগে করোনাভাইরাসের নমুনা জমা দিয়েও শিক্ষিত ও হাফেজে কুরআন ওই ব্যক্তি মসজিদে তারাবিহ পড়ালেন!

শনিবার (৯ মে) কক্সবাজার জেলায় ৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন চকরিয়া উপজেলার, অন্য দুইজন উখিয়া ও টেকনাফের। আর উখিয়ায় শনাক্ত হওয়া ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের বাড়ি কক্সবাজার শহরের মাঝির ঘাট এলাকায়। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই।

মাঝির ঘাট ও পাশর্^বর্তী টেকপাড়ার অধিবাসীরা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির বাড়ির সামনে একটি লাল পতাকা টানিয়ে প্রশাসন দায়িত্ব শেষ করেছে।

তাদের মতে, করোনা আক্রান্ত ওই কুরআনে হাফেজ গত শুক্রবারও মাঝিরঘাট জামে মসজিদে খতমে তারাবিহ পড়িয়েছেন। ওই দিন তিনি তারাবিহ’র শেষ দু’টি রাকাত কাশির কারণে পড়াতেই পারেননি। পরে অন্য আরেকজন সেই দু’টি রাকাত তারাবিহ পড়িয়ে নামাজ শেষ করেন।

এলাকাবাসির প্রশ্ন, ওই কুরআনে হাফেজ একজন শিক্ষিত ও বুঝদার মানুষ। এই মানুষ জেনে বুঝে কিভাবে মসজিদে তারাবিহ পড়াতে গেলেন। তার মাধ্যমে এখন কতজন মুসল্লির মাঝে করোনার জীবাণু ছড়িয়েছে কে বলতে পারে?

সুত্র মতে, উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারি গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) করোনা নমুনা জমা দেন। নমুনা জমা দেয়ার পরও তিনি দুইদিন মাঝির ঘাট জামে মসজিদে খতমে তারাবিহ পড়িয়েছেন।

এলাকাবাসি ওই মসজিদ কমিটির দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে মাঝির ঘাট জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর কাশেম জানান, ওই কুরআনে হাফেজের করোনা শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই শনিবার সন্ধ্যা থেকে মসজিদে মুসল্লি সীমিত করে ফেলা হয়েছে। খতমে তারাবিহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানলাম, ওই কুরআনে হাফেজ শুক্রবারও মুখে মাস্ক লাগিয়ে তারাবিহ পড়িয়েছেন। কারও সাথে করমর্দন করেননি। তারাবিহ ছাড়া অন্য সময়ও তিনি মসজিদে আসেন না।

জাহাঙ্গীর কাশেমও প্রশ্ন তুলেছেন, একজন কুরআনে হাফেজ ও শিক্ষিত মানুষ তার উপসর্গ দেখার পরও কিভাবে মসজিদে নামাজ পড়াতে আসলেন?

তিনি জানান, ওই কুরআনে হাফেজের ভাইয়ের অনুরোধে তাকে রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন এলাকাবাসির মতে, একজন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেটি এলাকাবাসিকে সতর্ক করার দরকার ছিল। সেটি নিয়ে লুকোচুরি করায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তাদের মতে, সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন মাঝির ঘাট মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন আর নিয়মিত নামাজে উপস্থিত থাকা মুসল্লিরা আর তাদের পরিবার।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!