১৫ টন ত্রাণের চাল কেলেঙ্কারি

পেকুয়ার ইউএনওসহ ৯ জনকে বিভাগীয় কমিশনার অফিসে তলব

পেকুয়ার ‘চালবাজি’ তদন্ত করতে আসছেন ৩ সদস্যের কমিটি

বিশেষ প্রতিবেদক, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় বহুল আলোচিত ত্রাণের ১৫ টন চাল আত্মসাতের ঘটনায় পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদাত, সাময়িক বহিস্কৃত ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৯ জনকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে। আগামিকাল ১০ মে সকাল ১০টায় তাদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।

গত ৭ মে তদন্ত কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবন্তী রায় স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে (স্মারক নং ০৫.২০.২২০০.১২৬.০৬.০৫৯.২০২০.৩৫৯) তাদের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তলব করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ১৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য তদন্ত কমিটির বিগত ৪ মে’র তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের গৃহীত বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্যউপাত্ত সমূহের কতিপয় বিষয়াদি সুষ্পষ্টীকরণের জন্য এই ৯ জনকে ডাকা হয়েছে।

যাদের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে তারা হলেন কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, যিনি ১৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তলব করা অপরাপর ব্যক্তিরা হলেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাত, পেকুয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কামাল পাশা, সাবেক পিআইও সৌভ্রাত দাশ, বর্তমান পিআইও আমিনুল ইসলাম, চাল আত্মসাতের দায়ে বহিস্কৃত টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম, টৈটং ইউপি সচিব আবদুল আলিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্য সহকারী শামিম ও উপজেলা ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. রাজিব।

এদিকে আজ ৯ মে আলোচিত ১৫ মেট্রিক টন ত্রাণের চালের বরাদ্দপত্রে স্বাক্ষর করা পেকুয়ার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ, বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়টি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত টৈটং ইউপি কার্যালয়ের সচিব আবদুল আলিম জানান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশ তিনি রিসিভ করেছেন এবং চেয়ারম্যান না থাকায় তার নোটিশটি তার স্ত্রী গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে আজ ৯ মে মোবাইলে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাত বলেন, ‘আমার বক্তব্য একটাই, আমি নিয়ম মেনে বরাদ্দ দিয়েছি। আর যাকে বরাদ্দটি দিয়েছি তিনি আমাকে মাস্টাররোল বুঝিয়ে দিবেন এটিই আমার বক্তব্য। আর যে কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে সেটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত। কিন্তু এ ধরণের কোন কাজ আমি করিনি।’

তিনি বলেন, ‘সঠিক তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারি কর্মকর্তা যে কাউকে ডাকতে পারেন। সবকিছুর একটি অফিসিয়াল প্রসিডিউর আছে। সেগুলো মেন্টেইন করতে হয়। এর বাইরে তদন্তাধীন বিষয়ে আমি এ মূহুর্তে কোন মন্তব্য করতে রাজি নই।’

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর কাছে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মেইলে এই বিষয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোন প্রকার সাড়া দেননি।

উল্লেখ্য, পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে গত ৩১ মার্চ টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে বরাদ্দকৃত ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে এনে গত ২৮ এপ্রিল তাকে আসামি করে পেকুয়ার পিআইও বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এক আদেশে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

পরে গত ৩০ এপ্রিল একই ঘটনার রেশ ধরে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বদলি করা হয়। কিন্তু ১ মে তার বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়। পরে এ ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তীকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবন্তি রায় ও কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম।

পরবর্তীতে গত ৪ মে মন্ত্রণালয় গঠিত ওই তদন্ত কমিটি পেকুয়া উপজেলায় এ বিষয়ে দিনভর শুনানি শেষে ৩৬ জনের স্বাক্ষ্য নেন বলে সাংবাদিকদের জানান। তদন্তকালিন সময়ে সেখানে অযাচিত হাজির হন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম। তদন্ত কমিটি তাঁর স্বাক্ষ্যও গ্রহণ করেন। তাঁকে নিয়ে তদন্তে সাক্ষ্য দেয়া ব্যক্তি হলেন ৩৭ জন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!