পেকুয়ায় ২২ বছর পর পিতৃপরিচয় চাইলেন এক যুবক, স্ত্রী চাইলেন স্বামীর অধিকার

পেকুয়ায় ২২ বছর পর পিতৃপরিচয় চাইলেন এক যুবক, স্ত্রী চাইলেন স্বামীর অধিকার

রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় পিতৃপরিচয় চাইতে সাংবাদিক ডেকে প্রেস ব্রিফিং করলেন এক শিক্ষিত যুবক। দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ পিতৃ পরিচয় পাননি অনার্স-মাস্টার্স সমাপ্ত করা ওই যুবক। পিতার স্বীকৃতির দাবি নিয়ে এবার পেকুয়ায় কলম সৈনিকদের নিয়ে করলেন সংবাদ সম্মেলন।

এ সময় সৎ মা ও স্বজনদেরও প্রেস ব্রিফিংয়ে হাজির করলেন তিনি।

ওই সময় লিখিত বক্তব্যে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জনকারী ওই যুবক বলেন, আমি পিতার অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২২ বছর বয়স হয়েছে, পিতার হক ও অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছি। আমি একজন ঔরসজাত বাবার সন্তান। বড় হয়েছি, শিক্ষাও অর্জন করেছি। তবে জন্মের পর থেকে সন্তানের প্রতি পিতার যে কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ থাকার কথা সেটুকু থেকে আমি অধিক অবহেলায় আছি।

তিনি বলেন, আমার মা আমাকে নিয়ে স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। সে সময় থেকে মা আমাকে মানুষ করার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। হাল ছাড়েননি। একমাত্র ছেলেকে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় আজকে শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।
ওই যুবক বলেন, আমি কিছুই চাই না। এ সমাজে শুধু চাই পিতৃপরিচয়।

তিনি বলেন, ২২ বছর পর আজকে গণমাধ্যম কর্মীদের লেখনির মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিবেককে প্রশ্ন রাখছি, আমি কি পিতার সন্তান হিসেবে পিতৃপরিচয় পেতে পারি না। তাহলে কেন আমাকে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত এই অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হলো।

৮ মে (শুক্রবার) পেকুয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে ওই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্টিত হয়। বিকেলে সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনায় হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুলের বাসভবনে এই প্রেস ব্রিফিং হয়।

এ সময় পেকুয়ার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে সাকিবুল ইসলাম (২২), তার সৎমা সাইফুল ইসলামের ১ম স্ত্রী সাবেকুন্নাহার ওরফে পাখি (৫২)।

লিখিত বক্তব্যে সাবেকুন্নাহার তার স্বামী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উত্তাপন করেন।

তিনি বলেন, আমার স্বামী ৩টি বিয়ে করেন। আমি ১ম স্ত্রী। দুটি বিয়ে হয়েছে আমার অনুমতি ছাড়া। তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন। আমি ও আমার আরেক সতীন হাসনে আরাকে অমানুষিক নির্যাতন করে স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। স্ত্রী হিসেবে খরপোষ, স্ত্রীর অধিকার আমাকে দেয়া হচ্ছে না। শুধু মারধর, নির্যাতন, বঞ্চনার মধ্যে আছি। আমার ছেলে সন্তানদেরও পিতৃ অধিকার থেকে পৃথক করা হয়েছে। আমি স্বামীর এই আচরণের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার চাই। স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এই প্রতারণার অবসান চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও এই পরিবারের ভগ্নিপতি পেকুয়া চৌমুহনীর ব্যবসায়ী আবু হাসনাত। তারাও পৃথক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

মরহুম ফরিদুল হক চৌধুরীর ছেলে ব্যবসায়ী হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বলেন, আমার ভাই সাইফুল ইসলাম তিনটি বিয়ে করেন। এক স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন। দুই স্ত্রী পথে-ঘাটে লাঞ্চনার শিকার। ১ম স্ত্রীর দুই ছেলেকে আমি মানুষ করেছি। পড়ালেখা শিখিয়েছি। একজনকে লন্ডনে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করি। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ভাই ছেলে সন্তান ও স্ত্রীদের হক আদায় করছেন না। পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে ভাই বোনদের অধিকার হরণ করছেন। মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পাঁয়তারা করছেন।

তার দাবি, তার ভাই সম্পত্তির প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করে নিঃস্বার্থবান হয়েছে। ভাইবোনের অংশ গায়ের জোরে সন্ত্রাসি কায়দায় জবর দখল করে রেখেছেন। এখন এ সব বললে মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখান।

এ সময় বক্তব্য দেন ফরিদুল হক চৌধুরীর মেয়ের জামাই আবু হাসনাত। তিনি বলেন, শ^শুরের প্রাপ্ত অংশ থেকে আমার স্ত্রী ও ছেলে সন্তানদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। বড় ভাই সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সব সম্পত্তি একাই ভোগ করছেন। হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বোনের প্রাপ্ত অংশের ওয়াসিলা আমাদের পরিশোধ করেন। কিন্তু বড় ভাই সাইফুল ইসলাম এ সব দিতে নারাজ। তাই সম্পত্তির দাবি নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!