বান্দরবানে সুস্থ দুইজন

মায়ের সাথে আইসোলেশনে থেকেও ‘করোনা মুক্ত’ ৫ বছরের শিশু

মায়ের সাথে আইসোলেশনে থেকেও ‘করোনা মুক্ত’ ৫ বছরের শিশু

মো. আবুল বাশার নয়ন, বান্দরবান
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে মহামারী করোনা জয় করে বাড়ি ফিরেছেন আরও দুইজন। এদের মধ্যে একজন থানচি থানার পুলিশ সদস্য ও অন্যজন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কম্বনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নারী। এ নিয়ে বান্দরবানে আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে করোনা জয় করেছেন তিনজন।

বিষয়টি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর।

জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল জেলার থানচি থানার পুলিশ সদস্য আবু জাফরের শরীরে করোনা শনাক্ত হলে ২৫ এপ্রিল তাঁকে বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়। সেখানে থাকা অবস্থায় পরপর দুইবার তাঁর করোনা নেগেটিভ ফলাফল আসে। এই কারণে তেরোদিন পর শুক্রবার (৮ মে) তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেয়া হয়।

এদিকে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় গত ২৭ এপ্রিল দ্বিতীয় করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হন জান্নাতুল হাবিবা নামে এক নারী। পরে তাঁকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে আনা হয়েছিল। তার শরীরেও পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ পাওয়া যায়। যার কারণে শুক্রবার সকালে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছাড় দেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, জান্নাতুল হাবিবার শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার শুরু থেকে মায়ের সংষ্পর্শে ছিলেন ৫ বছর বয়সী এক শিশু সন্তান। মায়ের রোগ শনাক্ত হওয়ার পর আইসোলেশনে কাটিয়েছে ১০ দিন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে শিশুটি করোনা মুক্ত ছিল।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে এই রোগীর দেখভাল ও নমুনা সংগ্রহকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আবু রায়হান জানান, মায়ের কোলে থাকা শিশুটিকে দ্বিতীয়বার করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তবে ভাগ্যক্রমে তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়নি।

এই প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. আবু জাফর মোঃ ছলিম জানান, বয়ষ্ক ও অসুস্থ মানুষকে সহজেই করোনা কাবু করতে পারে। কিন্তু এই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় করোনা ছুঁতে পারেনি তাকে।

তিনি জানান, করোনার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও লক্ষণ দেখে আমরা জান্নাতুল হাবিবাকে চিকিৎসা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছি। এ কারণে আমরা পরপর দুইজন রোগীকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ড ইনচার্জ এবং নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলস কাজ করেছেন।

করোনা পরিস্থিতির বিষয়ে বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. অং সুই প্রু মারমা জানান, এই পর্যন্ত ৬১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করার পর ৩৮৭ জনের রিপোর্ট এসেছে। এদের মধ্যে ৯ জনের নমুনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে। তিনিও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!