একদিনেই ঘটনার আদ্যোপান্ত বের করল র‌্যাব

সেই তরুণী চম্পাকে ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো সিএনজিচালক জয়নাল

তরুণী চম্পাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়েছিল, ধর্ষক সিএনজিচালক আটক

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

গত বুধবার (৬ মে) একাই চট্টগ্রামের ফুফুর বাড়ি থেকে ফিরছিলেন নিজের বাড়ি কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় ১৯ বছরের তরুণী চম্পা। বিকাল ঘনিয়ে যখন সন্ধ্যা হয়ে এলো, তখন তাকে বহনকারি সিএনজি ছিল কক্সবাজারের পেকুয়া-চকরিয়ার নির্মাণাধীন বিশ্বরোডে। লকডাউনের ঝামেলা এড়াতে ওই সড়ক দিয়ে আসছিলেন তিনি। লকডাউন থাকায় মাঝপথে রিক্সা, সিএনজিসহ কয়েকটি গাড়ি বদলাতে হয়েছে তাকে। কিন্তু কে জানতো যাত্রাপথেই নিশৃংসভাবে প্রাণ হারাতে হবে এই তরুণীকে।

সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া উপজেলা থেকে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে যে সিএনজিতে উঠলেন তরুণী চম্পা, সেই সিএনজির চালকই কিছু দূর এসে আবারও পেকুয়ার উদ্দেশ্যে উল্টো ঘুরিয়ে নেয় সিএনজি। পেকুয়ার মৌলভীপাড়া ব্রীজের এক পাশে সিএনজি থামিয়ে সিএনজি চালক জয়নাল ও তার সহযোগী সাজ্জাদ মিলে চম্পাকে রাতের আঁধারে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর এক পর্যায়ে ওই তরুণীকে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে আবারও গাড়িতে তুলে। কিছুদূর যাওয়ার পর হাইওয়ে সড়কের চকরিয়ার জঙ্গলকাটা নামক স্থানে রাত সাড়ে ৯টায় চলন্ত সিএনজি থেকে তরুণী চম্পাকে ছুড়ে ফেলে দেয়।

এমন নিশৃংস ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া সিএনজি চালক জয়নাল। এই ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ওই তরুণীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চকরিয়া পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

১৯ বছরের তরুণী চম্পাকে নির্মম ভাবে খুন করার ঘটনা নিয়ে পুরো হত্যাকান্ডের ঘটনাটির আদ্যোপান্ত বের করে কক্সবাজারস্থ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-১৫)।

ঘটনা উদঘাটন, হত্যাকারিকে যেভাবে আটক করল র‌্যাব

কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ টিমের একটি চৌকস টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত তরুণী চম্পার পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পারে চম্পা বেগম একাকি তার ফুফুর চট্টগ্রামের বাসা থেকে নিজের বাসায় চকরিয়া-পেকুয়া হাইওয়ে দিয়ে আসছিলেন। যাত্রাপথে চম্পা বেগম একটি রিক্সা ও দুইটি সিএনজিতে উঠেন। এরই মাঝে র‌্যাবের অনুসন্ধানি টিমের কাছে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় শুধুমাত্র একজন সিএনজি চালকের ফোন নাম্বার ছাড়া আর কোন তথ্য ছিল না। তার মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরেই প্রথম সিএনজি চালক মিজানকে খুঁজে বের করা হয়। সিএনজি চালক মিজান তথ্য দেয়, ভিকটিম চম্পা বেগম পেকুয়ার চৌমুহনি থেকে দ্বিতীয় সিএনজি যোগে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরই মধ্যে কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ টিমের হাতে চম্পার ময়না তদন্তের রিপোর্ট চলে আসে।

ওই রিপোর্টেই জানতে পারে চম্পাকে ধর্ষণ করেই হত্যা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৫ টিম হত্যাকান্ডের আগে সিএনজিতে উঠা সিএনজি চালক মিজান, পেকুয়ার সিএনজি স্টেশনের লাইনম্যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্বিতীয় সিএনজি চালকের অবস্থান জানতে পারে। তাৎক্ষনিক র‌্যাবের চৌকস আভিযানিক দল চাঞ্চ্যলকর-বর্বরোচিত ধর্ষণ ও খুনের প্রধান অভিযুক্ত মোঃ জয়নাল আবেদীনকে (১৮) ধরে ফেলে।

ওই যুবক পেকুয়ার মেহেরঘোনা নন্দীরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

র‌্যাবের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, প্রধান অভিযুক্ত আসামি সিএনজি চালক জয়নালের স্বীকারোক্তি মতে, তার সহযোগী পেকুয়ার শেখের কিল্লা ঘোনা এলাকার আব্দুল হোছাইনের ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হোসেনসহ চম্পা বেগমকে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তার সিএনজিতে রিজার্ভ যাত্রী হিসেবে পেকুয়ার চৌমুহনি থেকে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পথিমধ্যে কিছুদূর আসার পর তারা সিএনজিকে বিপরীতে দিকে ঘুরিয়ে আবার পেকুয়ার দিকে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে পেকুয়ার মৌলভী পাড়া ব্রীজের এক পাশে সিএনজি থামিয়ে তারা দুইজন মিলে ধর্ষণ করে চম্পা বেগমকে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আটক জয়নাল জানায়, ধর্ষণ শেষে তারা চম্পাকে পুনরায় সিএনজিতে তুলে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা চকরিয়ার জঙ্গলকাটায় হাইওয়েতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চলন্ত সিএনজি থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

এই ধরণের স্বীকারোক্তি দিয়েছে হত্যাকারি সিএনজি চালক জয়নাল।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!