কক্সবাজারে ৪ রোগীর একজন বিশেষ বাহিনীর, সবপক্ষের ‘লুকোচুরি’!

নাইক্ষ্যংছড়ির করোনা রোগীকে রামু আনা হয়নি, বাড়িতেই আছেন

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার জেলায় প্রায় প্রতিদিনই একাধিক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে বিসিএস ক্যাডার, ডাক্তারসহ সব পেশার মানুষ রয়েছেন। শুক্রবারও (৮ মে) কক্সবাজারে ৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্থিত্ব ধরা পড়ে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে নমুনা জমা করেছিলেন এই চারজন। এদের মধ্যে দুইজন কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা, আর একজন চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকার বাসিন্দা। চতুর্থজন কে?

এই চতুর্থজন নিয়ে শুরু হয় লুকোচুরি! সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষই এই চতুর্থজন নিয়ে কথা বলতে নারাজ। সকল পক্ষেরই কোন না কোন বাহানা।

কক্সবাজার ভিশন ডটকম নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, ওই চতুর্থ ব্যক্তি দেশের বিশেষায়িত একটি বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ওই বাহিনীর ১২ জন সদস্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে করোনার নমুনা জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন কর্মকর্তার করোনা ‘পজিটিভ’ এসেছে।

কক্সবাজার ভিশন ডটকমের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে প্রশ্ন ছিল, কক্সবাজার ভিশন ডটকম কারো পরিচয় প্রকাশ করবে না, কিন্তু শুধু নিশ্চিত হতে চাই, ওই বাহিনীর কোন সদস্য করোনা ‘পজিটিভ’ কিনা? সেই প্রশ্নের সদুত্তর কারো কাছেই পাওয়া যায়নি। অনেকে ফোনই ধরেননি। আর সেই বিশেষায়িত বাহিনী জবাব না দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে।

এখন প্রশ্ন, করোনাভাইরাস কী এইডসের মতো কোন রোগ? যেখানে সমাজে হেয় হবার প্রশ্ন আসে। করোনাভাইরাসজনিত রোগ, যেটি জ্বর, সর্দি, কাশি আর গলাব্যথার মতো উপসর্গ থেকে হয়। এখানে তো হেয় হওয়ার কিছু নেই।

সমাজে কারো এইডস হলে সেটি গোপন করা হয়, কারণ সেখানে যৌন সংস্পর্শের মতো বিষয় জড়িত। রক্তদান সম্পর্কিত বিষয় জড়িত। কার রক্ত থেকে ওই রোগ ছড়ালো সেই প্রশ্ন ‍উঠে আসে। তখন ওই রোগী সমাজে ছোট হয়ে যায়, অনেক সময় হেয় করা হয়। করোনাভাইরাস তো সেই বিষয় নয়। এখানে লজ্জা বা ঘৃণার কিছু নেই। এটি যে কারো হতে পারে, যে কারো!

তাহলে কেন এই লুকোচুরি? সেই উত্তরও কেউ দিতে রাজি নন। অথচ কোথায়, কোন এলাকায় এই রোগ ছড়াচ্ছে তা জানতে হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ মিডিয়া গুলোর দিকে উম্মুখ হয়ে আছে।

সুত্র মতে, শুক্রবার যে চারজন করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ হয়েছেন তাদের মধ্যে যে দুইজন কক্সবাজার শহরের রয়েছেন তারা একজন কক্সবাজার শহরের পূর্ব রুমালিয়ারছড়ার বাসিন্দা, আরেকজন কক্সবাজার শহরের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকার বাসিন্দা। আরেকজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্যাম্পল জমা দিলেও তিনি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের নতুন পাড়ার বাসিন্দা। চতুর্থজন কোন এলাকার বাসিন্দা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যদিও ওই রোগী নিয়ে সারা শহরজুড়ে মানুষের মুখে মুখে আলোচনা চলছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কক্সবাজার শহরের দুইজনের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। চকরিয়ার রোগীর বাড়ি লকডাউনের প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৮ মে) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৯০ জনের করোনা টেষ্ট হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনের করোনা ‘পজিটিভ’ হয়। এদের মধ্যে আরও একজনের করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছে। ওই ব্যক্তি হলেন ‘ফলোআপ’ রোগী, যিনি রামু আইসোলেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!